৩০ আগস্ট ২০২৬

নেপালে তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৩ পিএম
নেপালে  তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার তিন দিন পর মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয় বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। গত শুক্রবার দেশটির রাসুয়া জেলার তিমুরে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোতে কোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চালানোর সময় আর্মড পুলিশ ফোর্সের একটি দল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনতে পায়। এরপর দ্রুত মাটি ও আবর্জনা সরিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর শিশুটিকে তিমুরে সীমান্ত ফাঁড়িতে নেওয়া হলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তাকে দ্রুত কাঠমান্ডুতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শুক্রবার রাতের অন্ধকার ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিমানযোগে স্থানান্তর সম্ভব হয়নি।

পরে শনিবার বিকেলে তাকে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়। বর্তমানে একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

রাসুয়ায় শিশুটিকে উদ্ধারের ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা কাদা, ভাঙা স্থাপনা ও ধ্বংসস্তূপের বিশাল স্তূপের মধ্যে সতর্কতার সঙ্গে মাটি সরিয়ে শিশুটির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। পরে তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভয়াবহ এই দুর্যোগের মধ্যে শিশুটির জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নেপালে আশার আলো দেখিয়েছে। এখনো হাজারো পরিবার নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষা করছে।

গত বুধবার হিমবাহ ধসে নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়। পাহাড়ি নদীগুলোতে নেমে আসে পাথর, বরফ, কাদা ও পানির প্রবল স্রোত। এতে নেপালে অন্তত ৬৬৯ জন এবং তিব্বতে আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

বন্যায় ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপাল ও তিব্বতে এখনো প্রায় তিন হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে নেপালে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৪২৬ জন এবং তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৫৫৪ জন।

নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের অনেকেই ভারতের তীর্থযাত্রী, যারা কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন।

বৃষ্টি, ঘন কুয়াশা এবং নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যার পানিতে তৈরি একটি হ্রদ উপচে পড়ার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। পরে আবহাওয়ার উন্নতি হলে শনিবার আবারও ব্যাপকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

নেপাল সরকার বড় পরিসরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। উদ্ধারকাজ, অবকাঠামো পুনরুদ্ধার ও কারিগরি সহায়তায় ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ দলও সহযোগিতা করছে। একই সঙ্গে বন্যার ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও অঞ্চল পুনর্গঠনে সম্ভাব্য ব্যয় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে নিখোঁজদের সন্ধান, নিহতদের শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়াই কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার।
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি