নিউ ইয়র্কে ঈদ অনুষ্ঠানে হিজাব পরা কংগ্রেস সদস্যের বক্তব্য উপেক্ষা বাংলাদেশিদের
কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ
আবু সাবেত: নিউ ইয়র্কে ঈদুল আজহা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় হিজাব পরা কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজকে উপস্থিত অনেকে বাংলাদেশি উপেক্ষা করেছেন বলে দাবি উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বুধবার ব্রঙ্কসে অনুষ্ঠিত মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদ উদযাপন অনুষ্ঠানে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ওকাসিও-কর্টেজ। অনুষ্ঠানে তিনি মাথায় স্কার্ফ জড়িয়ে হিজাবসদৃশ পোশাক পরেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সংহতি, প্রতিবেশীপ্রেম এবং সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখছেন। তবে তার বক্তব্যের সময় পেছনে উপস্থিত লোকজনের কথাবার্তার শব্দ এতটাই জোরে শোনা যায় যে বক্তৃতার অনেক অংশ স্পষ্টভাবে শোনা কঠিন হয়ে পড়ে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সমালোচকদের কেউ কেউ দাবি করেন, 'সংহতি' নিয়ে বক্তব্য দিলেও অনেক পুরুষ উপস্থিতি তাকে উপেক্ষা করেছেন এবং তার বক্তব্যের ওপর কথা বলতে থাকেন।
একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন,'হিজাব পরে সংহতির কথা বলছিলেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও, অথচ পুরুষদের ভিড় তার কথা উপেক্ষা করছিল।'
আরেকজন মন্তব্য করেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশিরভাগ ভিডিওতে শুধু এওসির মুখ দেখানো হয়েছে এবং শব্দ পরিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু দূর থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ভিড়ের শব্দ এত বেশি ছিল যে তার বক্তব্য প্রায় শোনা যাচ্ছিল না।
তবে অনেকেই ওকাসিও-কর্টেজের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, তিনি মুসলিম ধর্মীয় রীতির প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন এবং অনুষ্ঠানটি খোলা জায়গায় হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পেছনের শব্দ বেশি ছিল।
একজন ব্যবহারকারী লেখেন, এটি একটি বড় আউটডোর কমিউনিটি অনুষ্ঠান ছিল। তাকে সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাথা ঢেকে রাখা সম্মানের বিষয়, যেমন রাজনীতিবিদরা সিনাগগে গেলে কিপ্পাহ পরেন।
সামাজিক মাধ্যমে আরেকজন প্রশ্ন তোলেন, মুসলিম না হয়েও হিজাব পরা কি অসম্মানজনক ছিল না?
জবাবে ওকাসিও-কর্টেজ লেখেন, এটি একটি মসজিদে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠান ছিল, যেখানে নামাজের আগে আমাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে মাথা ঢেকে রাখা ছিল সম্মান প্রদর্শনের উপায়। নিউ ইয়র্ক সিটির প্রতিনিধি হওয়ার অন্যতম আনন্দের বিষয় হলো বিভিন্ন সম্প্রদায়ের রীতি-নীতি সম্পর্কে শেখার সুযোগ পাওয়া।
ভিডিওটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান ইরানি সাংবাদিক ও নারী অধিকারকর্মী মসিহ আলিনেজাদ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, এটি কোনো সাংস্কৃতিক রীতি নয় বা মজার শেখার অভিজ্ঞতাও নয়। শরিয়া আইনের অধীনে বসবাসকারী নারীদের জন্য এটি জীবনের বাস্তবতা। তাদের অভিজ্ঞতা কোনো সাংস্কৃতিক পর্যটনের বিষয় নয়।
ঈদুল আজহা বা ‘ত্যাগের উৎসব’ মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা সাধারণত তিন থেকে চার দিন ধরে উদযাপিত হয়। এ সময় মুসলমানরা মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে বিশেষ নামাজে অংশ নেন এবং হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে মেয়র মামদানি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ঈদুল আজহা আমাদের শেখায় যে ত্যাগ কোনো বোঝা নয়। এটি নিজেকে বৃহত্তর কিছুর অংশ হিসেবে দেখার এবং প্রয়োজনমতো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
যুক্তরাষ্ট্রে কসাই সংকট: কোরবানির মাংস পেতে হাজারো প্রবাসীর ভোগান্তি
অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই ছেলেকে হত্যার পর পুলিশকে ফোন বাংলাদেশির!
দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু
সঙ্গীত একাডেমি