নিউ ইয়র্কের প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্নকেন্দ্রে ফেডারেল অভিযান
মানি লন্ডারিং ও ঘুষের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ
ব্রুকলিনের অন্তত দুটি প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্নকেন্দ্রে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা।
নিজস্ব প্রতিবেদক: মেডিকেইড জালিয়াতির তদন্তে মঙ্গলবার ব্রুকলিনের অন্তত দুটি প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্নকেন্দ্রে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে মানি লন্ডারিং, অবৈধ কমিশন বা ‘কিকব্যাক’ লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেছেন, রাজ্যের সবচেয়ে অসহায় কিছু মানুষের সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে জালিয়াতি ও অপব্যবহার রোধে কয়েক মাস ধরে চলা ব্যাপক উদ্যোগের অংশ এই অভিযান।
অন্য একটি বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হোকুল বলেন, “মানি লন্ডারিং, অবৈধ কমিশন লেনদেন, অনিয়মিত বিল আদায় এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে আমরা যেসব সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে সন্দেহ করছি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
দ্য পোস্টের প্রতিবেদকেরা ব্রুকলিনের সন্দেহভাজন দুটি দিবাযত্নকেন্দ্রের বাইরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) সদস্যসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের দেখতে পান।
ছবিতে দেখা যায়, সানসেট পার্ক ও বরো পার্কের কেন্দ্র দুটি থেকে প্রমাণসামগ্রীর বাক্স নিয়ে বের হচ্ছেন তদন্তকারীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এইচএসআই লিখেছে, “যে পরিচর্যা, পরিবহন বা অন্য সেবা কখনো দেওয়াই হয়নি, তার জন্য সরকারি কর্মসূচির কাছে বিল দাখিল করা জালিয়াতি—কাগজপত্রের ভুল নয়।”
এইচএসআইয়ের এক মুখপাত্র দ্য পোস্টকে দেওয়া বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন, সংস্থাটি “আদালতের অনুমোদিত আইন প্রয়োগমূলক কার্যক্রম” পরিচালনা করছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
হোকুল বলেন, ২০২১ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন কর্মসূচির ওপর নজরদারি জোরদার করতে তাঁর প্রশাসন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, এটি তার সর্বশেষ উদ্যোগ। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে মেডিকেইডের ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
হোকুল প্রশাসন জানিয়েছে, নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত নিউইয়র্কের প্রায় ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের মেডিকেইড কর্মসূচিতে জালিয়াতি মোকাবিলার মাধ্যমে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে ফেডারেল কৌঁসুলিদের অভিযোগ, হোকুলের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ—রাজ্যের সেবাগ্রহীতার নির্দেশনায় পরিচালিত গৃহপরিচর্যা কর্মসূচি বা সিডিপিএপির সংস্কার প্রক্রিয়ায় কারসাজি হয়েছে।
হোকুল প্রশাসন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দায়ের করা সংশ্লিষ্ট ফেডারেল মামলা খারিজের আবেদন করেছে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
ফ্রান্সে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার, সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত
সঙ্গীত একাডেমি