৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউ ইয়র্কে দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর আরোপে মামদানির বিপক্ষে আদালতের রায়

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
নিউ ইয়র্কে দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর আরোপে মামদানির বিপক্ষে আদালতের রায়

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি

নোমান সাবিত: স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের এক বিচারক মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির দ্বিতীয় বাড়ির ওপর প্রস্তাবিত ‘পিয়েদ-আ-তের কর’ (pied-à-terre tax) বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। আদালতের মতে, করটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে নগর প্রশাসনের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল।

নিউ ইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ওয়েইন ওজি তাঁর রায়ে বলেন, মামদানি প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স (ডিওএফ) ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কারা এই কর দেবেন, তা নির্ধারণের পদ্ধতিতে মামলার বাদী—নিউ ইয়র্ক সিটির একদল বাড়ির মালিকের—যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে।

বিচারক ওজি লিখেছেন, ‘এখানে কোনো অপরাধের বিষয় নেই। অথচ ডিওএফ যেভাবে কর আইনটি বাস্তবায়ন করছে, তাতে বাড়ির মালিকেরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি ও শাস্তির মুখে পড়ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ডিওএফ বাড়ির মালিকদের যে নোটিশ ডাকযোগে পাঠিয়েছিল, তা ‘দায়িত্বহীন ও অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ির মালিকদের সময় ও অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য করেছে।’ একই সঙ্গে করের আওতামুক্ত থাকার প্রমাণ হিসেবে কী ধরনের নথি প্রয়োজন, সে সম্পর্কেও নোটিশগুলোতে যথাযথ নির্দেশনা ছিল না।

নতুন করে তালিকা তৈরির নির্দেশ

আদালত নগর কর্তৃপক্ষকে বর্তমানে করের আওতায় দেখানো সব বাড়ির তালিকা বাতিল করে নতুন একটি সীমিত তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন তালিকায় শুধু প্রকৃতপক্ষে সারচার্জের আওতায় পড়া সম্পত্তিগুলো রাখতে হবে।

আগে ডাকযোগে পাঠানো সব নোটিশও বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। প্রতিটি সম্পত্তির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে প্রাথমিক যাচাই ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই নতুন নোটিশ পাঠানো যাবে।

এর আগে আগস্টে বিচারক ওজি করটির বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে একটি টেম্পোরারি রেস্ট্রেইনিং অর্ডার জারি করেছিলেন। তবে নগর কর্তৃপক্ষ আপিল করায় সেই আদেশ কার্যকর হওয়া স্থগিত হয়ে যায়।

বর্তমান মামলাটি অবশ্য করটির আইনগত বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করছে না। মূল বিরোধ হচ্ছে কর বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে। তারপরও চলতি বছরের শুরুতে আইনে পরিণত হওয়া এই নতুন কর কার্যকরের ক্ষেত্রে আদালতের রায়টি মামদানি প্রশাসনের জন্য আরেকটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাদীপক্ষের তীব্র সমালোচনা

বাদীদের আইনজীবী এবং সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস প্রশাসনের ফার্স্ট ডেপুটি মেয়র র‌্যান্ডি মাস্ট্রো মামলাটি দায়েরের সময় স্থানীয় স্পেকট্রাম নিউজ-কে বলেছিলেন, মামদানি প্রশাসন যেভাবে করটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে তা ‘সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল, ভুলভাবে পরিচালিত এবং বিপর্যয়কর।’ এটি বাদীপক্ষের আইনজীবীর মূল্যায়ন; আদালতের নিজস্ব ভাষ্য নয়।

রায়কে ‘ভুল’ বলছে মামদানি প্রশাসন

মেয়র মামদানির মুখপাত্র ম্যাট রাউশেনবাখ দ্য হিল-কে বলেন, আদালতের রায়টি ‘ভুল’।

তিনি বলেন, নগর কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ (stay) কার্যকর করার উদ্যোগ নেবে। স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকলে প্রশাসন কর বা সারচার্জটি বাস্তবায়নের কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

রাউশেনবাখ বলেন, ‘স্থগিতাদেশ কার্যকর হলে আমরা প্রথম দিন থেকে যেভাবে করে আসছি, সেভাবেই ন্যায্য, দক্ষ ও সম্পূর্ণ আইনসম্মতভাবে সারচার্জ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখব।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘অতি ধনীরা তাঁদের ন্যায্য অংশের কর দেওয়া এড়াতে আদালতে লড়ছেন। নিজেদের বিশেষ সুবিধা রক্ষার জন্য তাঁরা একের পর এক মামলা করছেন এবং আমরা পিছিয়ে যাব না।’

প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিচারক ওজির রায় কার্যকর হওয়া সাময়িকভাবে থামাতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই স্থগিতাদেশের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কী এই ‘পিয়েদ-আ-তের’ কর?

মেয়র জোহরান মামদানি ও নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এপ্রিল মাসে এই করের প্রস্তাব করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এটি নিউ ইয়র্ক সিটির বাজেট ঘাটতি কমাতে সহায়তা করবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তির অন্যত্র প্রধান বাসস্থান রয়েছে কিন্তু নিউ ইয়র্ক সিটিতে অতিরিক্ত উচ্চমূল্যের আবাসিক সম্পত্তি রয়েছে, তাঁদের নির্দিষ্ট সম্পত্তির ওপর বার্ষিক সারচার্জ দিতে হবে। এর আওতায় এক থেকে তিন পরিবারের বাড়ি, কনডোমিনিয়াম এবং কো-অপ অ্যাপার্টমেন্ট অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

মামদানি জুলাই মাসে বলেছিলেন, নিউ ইয়র্ক সিটির আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ‘দীর্ঘমেয়াদি সমাধান’ তৈরির লক্ষ্যেই এই কর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে সর্বশেষ আদালতের রায়ে করটির বৈধতা বাতিল হয়নি। বিচারক মূলত কারা করের আওতায় পড়বেন তা নির্ধারণ, বাড়ির মালিকদের নোটিশ দেওয়া এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে এই কর ঘিরে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি