নারী ও শিশুদের হত্যা করে পার পাওয়া যায় না
নিউ ইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান কংগ্রেসম্যান রো খান্নার
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
মিনারা হেলেন: ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না শুক্রবার বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সিদ্ধান্ত মেনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচিত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে গ্রেপ্তার করা। তাঁর ভাষায়, 'নারী ও শিশুদের হত্যা করে পার পাওয়া যায় না।'
মেইডাস টাচের প্রতিবেদক পাবলো মানরিকেজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খান্না এ মন্তব্য করেন। এর আগে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি যিনি গত বছর নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের অঙ্গীকার করেছিলেন মঙ্গলবার স্বীকার করেন যে, এ ধরনের গ্রেপ্তার কার্যকর করার আইনি ক্ষমতা তাঁর নেই।
খান্না বলেন, 'মেয়রের সেই ক্ষমতা নেই। তবে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উচিত নেতানিয়াহু অথবা পুতিনকে গ্রেপ্তার করা। এ নিয়ে কোনো দ্বিধা থাকা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। এটি মানবাধিকারের প্রশ্ন এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষার বিষয়।'
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৩ সালে ইউক্রেন থেকে শিশুদের অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যুদ্ধাপরাধের দায়ে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করা হয়।
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে বহু মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষক গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত মাসে জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে।
মামদানি গত সপ্তাহে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে জানান, শরৎকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্ক সফর করলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে আইন কী অনুমতি দেয়, তা নিয়ে তাঁর দপ্তরের আইন বিভাগের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনা চলছে।
মামদানির মন্তব্যের পরপরই ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুকে 'কোনোভাবেই, কোনো পরিস্থিতিতেই' গ্রেপ্তার করা হবে না। শুক্রবার সাক্ষাৎকারে খান্নাকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে ট্রাম্পকে প্রচলিত অর্থে ‘আইনশৃঙ্খলার প্রেসিডেন্ট’ বলা যায় না। তবুও খান্না তাঁকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
খান্না বলেন, 'তিনি আইনশৃঙ্খলার প্রেসিডেন্ট নন এবং মানবাধিকার বা আন্তর্জাতিক আইন নিয়েও তাঁর বিশেষ আগ্রহ নেই। কিন্তু এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বিব্রতকর। আইসিসির পরোয়ানা শুধু নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নয়, পুতিনের বিরুদ্ধেও রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, আইসিসি কারও বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে এবং সেই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারে প্রবেশ করলে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাঁকে গ্রেপ্তার করা। আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়টি এতটাই সরল।'
মানরিকেজ বলেন, নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য নিউ ইয়র্ক সফর তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য ট্রাম্পের সামনে একটি 'সুবর্ণ সুযোগ' তৈরি করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেকের সন্দেহ, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে প্রভাবিত করে ইরানকে ঘিরে চলমান দীর্ঘায়িত যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছেন।
খান্না বলেন, ট্রাম্প ব্যবস্থা নিলে অন্তত কিছুটা হলেও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, 'নেতানিয়াহু ট্রাম্পের কথাও অমান্য করছেন। ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ করার স্বার্থে বোমা হামলা থামাতে বললেও তিনি লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে মূল বিষয়টি হলো জবাবদিহি।'
তিনি আরও বলেন, 'আপনি নারী ও শিশুদের হত্যা করবেন, আপনার বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকবে, তারপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে ভাববেন যে কিছুই ঘটবে না—এটি হতে পারে না। কেউ যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারে প্রবেশ করলে, আমাদের দেশ আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর করবে।'
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি, কানেকটিকাট
সঙ্গীত একাডেমি