‘নিউইয়র্কে আসবই’—মামদানিকে কড়া বার্তা নেতানিয়াহুর
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বিরোধিতা সত্ত্বেও আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু । একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, মামদানি শহরে বিভাজন, ঘৃণা এবং ইহুদিবিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন।
রবিবার ফক্স নিউজের ‘সানডে মর্নিং ফিউচার্স’ অনুষ্ঠানে মারিয়া বার্তিরোমোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মামদানির উদ্দেশ্যে আমার জবাব হলো, আমি নিউইয়র্কে যাব। আমি জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে সত্য তুলে ধরব। আমি ইসরায়েলের পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের পক্ষে কথা বলব।
’ এর আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেন, তিনি নিউইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন। এর জবাবে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসের প্রতি সমর্থন দেখাচ্ছেন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার ঘটনাকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করছেন।
নেতানিয়াহুর দাবি, মামদানির স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা ৭ অক্টোবরের হামলাকে উদ্যাপন করেছিলেন। তিনি বলেন, ওই হামলা ছিল হলোকাস্টের পর ইহুদিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।
তিনি আরো বলেন, ‘হামাস আমাদের নারীদের ধর্ষণ করেছে, অনেককে হত্যা করেছে, শিশুদের জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে এবং ২৫১ জন নিরীহ মানুষকে জিম্মি করেছে। মামদানি তাদেরই সমর্থন করছেন।’ তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সাক্ষাৎকারে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে নেতানিয়াহু সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গণহত্যার জন্য হামাসই দায়ী।
তার ভাষ্য, হামাসের ঘোষিত লক্ষ্যই হলো ইসরায়েল ও ইহুদিদের ধ্বংস করা। তিনি বলেন, ‘তারা সুযোগ পেলে ইসরায়েলের প্রতিটি ইহুদিকে হত্যা করত। তাই গণহত্যার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধেই প্রযোজ্য।’ তিনি আরো দাবি করেন, হামাস সাধারণ মানুষের মধ্যে অবস্থান নেয় এবং বেসামরিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে যেতে বাধা দেয়। তার মতে, এতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির দায়ও হামাসের।
নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্ব নিয়েও সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, আগের মেয়ররা সব সম্প্রদায়কে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বর্তমান মেয়র মানুষকে বিভক্ত করছেন। তিনি বলেন, ‘একজন মেয়রের দায়িত্ব হলো শহরের সব মানুষের প্রতিনিধি হওয়া। ইহুদি, মুসলিম, খ্রিস্টান—সবার জন্য সমানভাবে কাজ করা। কিন্তু মামদানি এক সম্প্রদায়কে আরেক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছেন।’ নেতানিয়াহুর দাবি, মামদানির বক্তব্যের কারণে নিউইয়র্কের ইহুদি বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমি নিউইয়র্কের অনেক ইহুদি-আমেরিকানের সঙ্গে কথা বলি। তারা এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।' সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কের একটি সিনাগগের বাইরে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল ও তার বিরুদ্ধে মামদানির বক্তব্যের পরদিনই ওই হামলা ঘটে। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না এটি কাকতালীয় ঘটনা। একজন ব্যক্তি ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করতে করতে এক ইহুদিকে ছুরিকাঘাত করেছে। এটি লজ্জাজনক এবং নিউইয়র্কের জন্যও খারাপ।”
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫১ বছর বয়সী রাউল মোরালেস নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যাচেষ্টার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনের আপার ওয়েস্ট সাইডে তিনি প্রথমে ৫৭ বছর বয়সী এক এশীয় ব্যক্তির পেছন থেকে এসে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করেন এবং তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এর কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল থেকে চার ব্লক দূরে একটি সিনাগগ থেকে বের হওয়া কিপ্পাহ পরা এক ইহুদি ব্যক্তির বুকে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে আঘাত করেন বলেও প্রসিকিউটরদের অভিযোগ। নেতানিয়াহু বলেন, নিউইয়র্ক সিটি হলের রাজনৈতিক বিরোধিতা তাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে বাধা দিতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘আমি এই শরতে নিউইয়র্কে যাব এবং বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের জোটের পক্ষে কথা বলব।’
উল্লেখ্য যে, গত বুধবার জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন। শুধু তিনিই নন, কোনো অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীরই এখানে অবাধে চলাফেরা করা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার গ্রেপ্তার হওয়া এবং বিচার হওয়া উচিত।’ এর কয়েক দিন আগে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশ নিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে শহরের আইনি ক্ষমতার সীমা কী, তা নিয়ে তার প্রশাসন নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে।সূত্র: কালের কণ্ঠ
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
ট্রাম্পের ক্ষমার পর স্বদেশে ফিরলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হার্নান্দেজ
সঙ্গীত একাডেমি, কানেকটিকাট
সঙ্গীত একাডেমি