১ জুলাই ২০২৬

নোটিশ ছাড়াই ভারতে ভাঙা হলো তিনটি মসজিদ ও মাজার

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
নোটিশ ছাড়াই ভারতে ভাঙা হলো তিনটি মসজিদ ও মাজার

ছবি: হিন্দুস্তান গ্যাজেট

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  ভারতের গুজরাট রাজ্যের কুচ জেলায় আগাম নোটিশ ছাড়াই তিনটি মসজিদ ও কয়েকটি মাজারসহ মোট ৩০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এ অভিযানের পর ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ দেশটির মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ। 

সোমবার (৩০ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান গ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্ছেদ অভিযানে মোট ৩০টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক ভবন এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা। 

তুর্কি গণমাধ্যম টিআরটি ওর্য়াল্ড প্রকাশিত এক ভিডিওতেও মসজিদ ভেঙে ফেলার বিষয়টি দেখা যায়।

ঘটনার পর জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল কুচ জেলা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জমিয়তের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাসেমী। 

তিনি অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই মসজিদগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তারা সন্তোষজনক কোনো জবাব পাননি।

ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক জুনা কান্দলা মসজিদ। মসজিদের খাদেম জানান, হঠাৎ করেই সেখানে অভিযান চালিয়ে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটক করার হুমকি দেওয়া হয়।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬৫ সাল থেকেই জুনা কান্দলা মসজিদটি ওয়াকফ হিসেবে নিবন্ধিত ছিল। এর নান্দনিক নির্মাণশৈলীর কারণে এটি এলাকায় পরিচিত একটি ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হতো।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামার বলেন, উচ্ছেদের সময় তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার এবং মসজিদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সেখানে যেতে দেয়নি। বরং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদিপুর এলাকার আরও একটি মসজিদও এই অভিযানে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উচ্ছেদ অভিযানে মোট ৩০টি অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা রয়েছে।

ভারতে মুসলিমদের ওপর আক্রমণ এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বৃদ্ধ ও নাবালকদের ওপর শারীরিক হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক ধর্মীয় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং সে দৃশ্য ভিডিও করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

মসজিদ ও মাদ্রাসা ভাঙচুরের পাশাপাশি উন্নয়নের নামে মুসলিমপ্রধান এলাকাগুলোয় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।  

মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নিয়মিত ও ক্রমবর্ধমান হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির মুসলিমদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড।

বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশেষ করে বিজেপি–শাসিত রাজ্যগুলোয় মুসলিমদের নিশানা করে গণপিটুনি, ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও মসজিদ-মাদ্রাসা ভাঙচুরের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি অনুষ্ঠান ও স্কুলে নির্দিষ্ট স্লোগান বাধ্যতামূলক করা, মাদ্রাসাগুলোর ওপর আক্রমণ এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর চেষ্টার মতো বিষয়গুলো নিয়ে বোর্ড আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র: যুগান্তর
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি