৪ আগস্ট ২০২৬

নোয়াখালীতে দুই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
নোয়াখালীতে দুই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

গিয়াস রনি নোয়াখালী প্রতিনিধি:  নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে চাঞ্চল্যকর ফয়েজ আহমেদ হত্যা ও ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম হত্যা মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। একই অভিযানে দুইটি সাজা ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকেও ভোলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন, ফয়েজ আহমেদ হত্যা মামলার ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি ওসমান (২৩), ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি শহিদুল ইসলাম শাওন (২৫) এবং দুই সাজা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. মোস্তাফা কামাল।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার  ঢাকা ও গাজীপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।  
র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর সঙ্গে র‍্যাব-২, র‍্যাব-১ ও র‍্যাব-৮-এর পৃথক যৌথ অভিযানিক দল এসব অভিযান পরিচালনা করে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ঢাকার হাজারীবাগ থানাধীন গজমহল রোড এলাকা থেকে ফয়েজ হত্যা মামলার আসামি ওসমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া এলাকা থেকে দুই সাজা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মোস্তাফা কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১২টা ৫ মিনিটে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকা থেকে ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম হত্যা মামলার আসামি শহিদুল ইসলাম শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র‍্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গত ১১ জুন রাতে সোনাইমুড়ীর নদোনা ইউনিয়নে বাড়ির সামনে কথা বলার সময় পূর্ববিরোধের জেরে ফয়েজ আহমেদ ও তার সঙ্গে থাকা দুইজনকে মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। পরে তাদের অন্য একটি স্থানে নিয়ে আবারও মারধর করা হয়। এতে ফয়েজ আহমেদ গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রেজাউল করিম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম (৫৭) সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মিতালী বেকারি পরিচালনা করতেন। টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর তাকে বেকারি থেকে বের করে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ নভেম্বর ভোরে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার মোস্তাফা কামালের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার দুটি মামলায় আদালত ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং মোট ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, গ্রেপ্তার ওসমানকে ঢাকার হাজারীবাগ থানায়, শহিদুল ইসলাম শাওনকে সোনাইমুড়ী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে এবং মোস্তাফা কামালকে ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি