৩ আগস্ট ২০২৬

পাকিস্তানের কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৩২

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৩ পিএম
পাকিস্তানের কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৩২

ছবি: রয়টার্স

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় নেই বললেই চলে।

উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।

বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার কাছে দুর্গম সোরাঙ্গে এলাকার একটি কয়লাখনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে মিথেন গ্যাস জমে বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের পর খনির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং অনেক শ্রমিক ভেতরে আটকা পড়েন।

শুক্রবার ভোরে বেলুচিস্তান প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, এ পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া খনির ভেতরে আরো তিনটি মরদেহের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে।

উদ্ধারকারীরা সেগুলো বের করে আনার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান বন্ধ হয়নি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, খনি উদ্ধারকারী দল এবং অন্যান্য জরুরি সেবার সদস্যরা এখনও খনির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা খুবই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। এর আগে বেলুচিস্তানের প্রধান খনি পরিদর্শক মুহাম্মদ আতিফ জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে মোট ৩৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।

এদিকে, অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সরকারি খনি কর্মকর্তা আবদুল গনি বেলুচ বলেন, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে পাশাপাশি থাকা দুটি কয়লাখনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উদ্ধারকাজও আরো কঠিন হয়ে পড়েছে।

 পাকিস্তানের কয়লাখনিগুলোতে এমন দুর্ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে বেলুচিস্তানের অনেক খনিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। খনির ভেতরে গ্যাসের মাত্রা পর্যবেক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের সুবিধা এবং জরুরি নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবের কারণে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। 

খনিশ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে খনির মালিকদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অবহেলার অভিযোগ করে আসছে। তাদের দাবি, অনেক মালিক শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেন না এবং নিরাপত্তাবিধিও যথাযথভাবে মেনে চলেন না। ফলে শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করলেও বেলুচিস্তানের হাজার হাজার মানুষ জীবিকার জন্য কয়লাখনির ওপর নির্ভরশীল। কম মজুরিতে কঠিন ও বিপজ্জনক কাজ করতে বাধ্য হন তারা। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও বেলুচিস্তান এখনো দেশের অন্যতম অনুন্নত অঞ্চল। সেখানে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের হার বেশি হওয়ায় জীবিকার তাগিদে অনেকেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ পেশা বেছে নিতে বাধ্য হন। সূত্র: কালের কণ্ঠ

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি