৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রার্থীদের স্বর্ণ আছে, স্ত্রীদের নেই—হলফনামায় ব্যতিক্রমী তথ্য

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
প্রার্থীদের স্বর্ণ আছে, স্ত্রীদের নেই—হলফনামায় ব্যতিক্রমী তথ্য


হুমায়ুন কবির,গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের নির্বাচনী প্রার্থীদের হলফনামায় উঠে এসেছে ব্যতিক্রমী ও কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য। একাধিক প্রার্থীর নিজের নামে স্বর্ণালংকার থাকলেও তাদের স্ত্রীদের নামে কোনো গহনা নেই। আবার কোনো কোনো প্রার্থীর নিজেরও নেই, স্ত্রীরও নেই। তবে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেছে—তার নিজের ও স্ত্রীর দুজনেরই রয়েছে স্বর্ণালংকার।

 

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথরের তৈরি গহনার বিবরণী পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। *জামায়াত ও নেজামে ইসলামী প্রার্থীর স্ত্রীর নামে গহনা নেই।  এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. বদরুজ্জামান। তার হলফনামা অনুযায়ী নিজের নামে রয়েছে ৩ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার। তবে তার স্ত্রী তাছলিমা আক্তারের গহনার কলামটি ফাঁকা (শূন্য)।

 

অন্যদিকে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মাওলানা মো. আবু তাহের খান নিজ নামে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার থাকার কথা উল্লেখ করলেও তার স্ত্রী মোছা. ছালেহা বেগমের কোনো স্বর্ণালংকার নেই। *বাসদ ও খেলাফত মজলিস প্রার্থীর গহনার তথ্য।
বাসদের (মার্কসবাদী) কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক একেএম আরিফুল হাসান হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার নিজেরও কোনো স্বর্ণালংকার নেই এবং তার স্ত্রী রেসমিনা হকেরও নেই। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. ফজলুর রহমান নিজের স্বর্ণালংকারের বিষয়ে ‘অজানা’ উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের স্বর্ণালংকারের ঘরও রয়েছে ফাঁকা। *একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিজের ও স্ত্রীর দুজনেরই স্বর্ণ আছে।


উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ হলফনামায় জানিয়েছেন, তার নিজের নামে রয়েছে ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং তার স্ত্রী সাঈদা মাসরুরের নামে রয়েছে ৫ ভরি স্বর্ণ। *জামায়াত প্রার্থীর আয় ও অনুদানের বিবরণ।


হলফনামা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. বদরুজ্জামানের বার্ষিক আয় কৃষি ও ব্যবসা থেকে ৫ লাখ টাকা। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান হিসেবে সম্ভাব্য প্রাপ্তির মধ্যে রয়েছে—প্রবাসী ভাগিনা হাসানুজ্জামানের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা, ভাতিজা মোফাজ্জল হোসেনের কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ভাই মুখলেছুর রহমানের কাছ থেকে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

এছাড়া আত্মীয়স্বজন ব্যতীত অন্যান্য ব্যক্তির কাছ থেকে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান হিসেবে সম্ভাব্য প্রাপ্তির মধ্যে রয়েছে মোট প্রায় ৬ লাখ টাকা। অন্য উৎস হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠন থেকে সম্ভাব্য ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


তার বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানার একটি মামলা থাকলেও তা ২০২৫ সালে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
*নেজামে ইসলাম পার্টি প্রার্থীর সম্পদের চিত্র।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সচিব মো. আবু তাহের খান হলফনামায় অধিকাংশ আয়ের খাতে ‘নাই’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তার নগদ অর্থ রয়েছে ৮ লাখ ৯৬ হাজার ৭০৩ টাকা। তার নিজের নামে রয়েছে ৫ ভরি স্বর্ণ, স্ত্রীর নামে নেই।


স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১০ শতাংশ জমি, যার মূল্য ৫০ হাজার টাকা। ফ্রিজ, মোবাইলসহ ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্র মিলিয়ে সম্পদের মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি