১৯ জুন ২০২৬

বিশ্ব শরণার্থী দিবস আজ

রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন নিয়ে বেড়েছে অনিশ্চয়তা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন নিয়ে বেড়েছে অনিশ্চয়তা

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থীশিবির কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির। মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বিভিন্ন সময়ে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এই শিবিরে আশ্রয় নেয়।

তবে এখনো এই রোহিঙ্গাদের জন্য কোনো সুখবর নেই। পৌনে ৯ বছরের বেশি সময় ধরে আশ্রিত এই জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন শুধু মুখে মুখেই। এমন প্রেক্ষাপটেই আজ শনিবার (২০ জুন) পালিত হবে বিশ্ব শরণার্থী দিবস।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার মুখে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর বসবাস গড়ে উঠেছে। ২০২৩ সাল থেকে আড়াই বছরে আরও ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা এসেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার অন্যতম কারণ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের বড় অংশে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ফেরা সম্ভব হচ্ছে না।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. জুবায়ের বলেন, প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হওয়ায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রাখাইনে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নেই। সেখানে এখন আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতে অভিযান চালাচ্ছে।’

এদিকে দীর্ঘমেয়াদি এই সংকট কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চাপ তৈরি করছে বলে মনে করেন কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ ন ম হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের কর্মসংস্থান, মজুরি ও সম্পদ ব্যবহারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে বনভূমি উজাড়, পাহাড় ক্ষয় এবং পরিবেশগত ক্ষতির প্রভাবও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

আশ্রয়শিবিরে দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও দাতা দেশগুলোর অর্থায়ন কমে যাওয়ায় খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা কর্মসূচিতে চাপ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বারবার সতর্ক করে বলছে, পর্যাপ্ত অর্থায়ন না পেলে শিবিরে মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার নতুন রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম জীবনযাপনের জন্য যে ধরনের ব্যবস্থা করা দরকার, সেটি করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। রোহিঙ্গাদের সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে রাখাইন অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ অনুকূল নয়।

রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। খুন, অপহরণ, মানব পাচার, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে কিছু রোহিঙ্গা জড়িয়ে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল জেলার আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য রোহিঙ্গাদের দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে খুন, অপহরণ, মাদক কারবার ও মানব পাচারসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’ এ জন্য তিনি প্রশাসনকে আরও নজরদারি ও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনে ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের আটকের দাবি জানান।

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি