১৬ আগস্ট ২০২৬

সাগরে প্রাণ গেল ১১ বাংলাদেশির, ১৮ জন জীবিত উদ্ধার

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
সাগরে প্রাণ গেল ১১ বাংলাদেশির, ১৮ জন জীবিত উদ্ধার

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে খাদ্যসংকট ও নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী। লাশগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন আরও ১৮ বাংলাদেশি। তাদের মিসরের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে মিসরের বাংলাদেশ দূতাবাস। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩ আগস্ট রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটিতে থাকা ৩৮ জনই বাংলাদেশি। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর খাবার ও পানি ছাড়াই নৌকাটি নিয়ে বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নৌকাটি সাগরে ভাসতে থাকে। খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। লাশগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা। এভাবে টানা ৯ দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছায়। পরে মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানার পাথারিয়া গ্রামের আবদুল হেকিমের ছেলে আবদুল করিম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আমাদের নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আর সামনে এগোতে পারিনি। এ সময় আমাদের উদ্ধার করতে দালালের লোকজন কিংবা অন্য কোনো সংস্থা এগিয়ে আসেনি।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে খাবার বা পানি কিছুই ছিল না। খাবার ও পানির অভাবে চোখের সামনেই ৯ জন বাংলাদেশি মারা গেছে। তাদের লাশ সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। পরে আরও দুজন মারা যান। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমরা এখন মারসা মাতরুহ হাসপাতালে ভর্তি। এখানকার চিকিৎসকরা আমাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং ভালো খাবারেরও ব্যবস্থা করছেন। আমাদের বাঁচান। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই। তবে আবদুল করিমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানে না তার পরিবার। যোগাযোগ করা হলে তার মা আকলিমা বেগম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার ব্যাপারে ছেলে আমাদের কিছু বলেনি।

আবদুল করিমের মামা ও পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুর রাজ্জাক জানান, বিষয়টি এই মাত্র আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমার ভাগনে সৌদি আরবে থাকত। সে যে সাগরপথে গ্রিসে যেতে চেয়েছে এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না।

মিসরের স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এর মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।

মিসরের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরিফ এবং স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের বাদরান নামের এক কর্মকর্তার সঙ্গে দূতাবাসের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আহত বাংলাদেশি নাগরিকরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিসরের সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আটক বাংলাদেশিদের ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

আমরা ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি দেখতে চাই!


আমরা ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি দেখতে চাই!

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি