১৯ মে ২০২৬

স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অর্থ পাচারের দায়ে নিউ ইয়র্কের ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অর্থ পাচারের দায়ে নিউ ইয়র্কের ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

নিউ ইয়র্কের এক ব্যবসায়ীকে ৩৭ মাসের কারাদণ্ড

নোমান সাবিত: স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ডলার অর্থ বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকের মাধ্যমে পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে নিউ ইয়র্কের এক ব্যবসায়ীকে ৩৭ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বাসিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও আজারবাইজানের দ্বৈত নাগরিক ৪২ বছর বয়সী এলনার জারবাইলোভ একটি বিদেশভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের অর্থ পাচারকারী ও সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। এই অপরাধচক্রটি “অপারেশন গোল্ড রাশ”-এর মাধ্যমে উন্মোচিত যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।
রাশিয়া ও অন্যান্য দেশে ভিত্তিক এই চক্রটি মেডিকেয়ার এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করে বহু বিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি ও অর্থ পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করত।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, চক্রটি স্বাস্থ্যবীমা ক্ষতিপূরণের চেক জমা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করত। যেহেতু অর্থগুলো মেডিকেয়ার ও প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি বীমা কোম্পানি থেকে আসত, তাই সেগুলো প্রথমে বৈধ অর্থ বলে মনে হতো, যা অর্থ পাচারকে সহজ করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশের জন্য অপরাধচক্রটি বিভিন্ন ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এড়াতে নানা কৌশল ব্যবহার করত এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকের ভেতরে থাকা সহযোগীদের সঙ্গেও সমন্বয় করত।
ভুয়া আর্থিক অ্যাকাউন্ট খুলতে তারা অনেক “নমিনি মালিক”-কে ব্যবহার করত, যাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করছিলেন না। তাদের হাতে ভুয়া বিক্রয় নথি ও করপোরেট নিবন্ধনপত্র তুলে দেওয়া হতো, যাতে দেখানো হতো যে তারা বিভিন্ন মেডিকেল ইকুইপমেন্ট কোম্পানির প্রকৃত মালিক।
এভাবে প্রকৃত মালিকানা গোপন রেখে মেডিকেয়ার ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের অর্থ এসব অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হতো। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন শেল কোম্পানি ও বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।
জারবাইলোভ এই আন্তর্জাতিক জালিয়াতি চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালনা করেন। তদন্তে জানা যায়, তিনি এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত পাঁচটি মেডিকেল ইকুইপমেন্ট কোম্পানির জালিয়াতির অর্থ জমা করেন এবং পরে সেই অর্থ বিদেশসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি আজারবাইজানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাকে ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯৮ ডলার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ফ্রড ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ড, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল স্কট জে. ল্যাম্পার্ট এবং এফবিআই নিউ হ্যাভেন বিভাগের চিফ ডিভিশন কাউন্সেল টনি কস্তাঞ্জা এ তথ্য জানান।
মামলাটি তদন্ত করেছে এইচএইচএস-ওআইজি ও এফবিআই। গ্রেপ্তারে সহায়তা করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস ও এল ডোরাডো টাস্ক ফোর্স।
মামলাটি পরিচালনা করেছেন ক্রিমিনাল ডিভিশনের ফ্রড সেকশনের সহকারী প্রধান শংকর রামামূর্তি, কেভিন লওয়েল এবং ট্রায়াল অ্যাটর্নি লিওনিড স্যান্ডলার ও সারা ই. পোর্টার।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম
 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি