উত্তাল ফ্রান্সে আবার বিক্ষোভ: আটক ১৩৫, বিভিন্ন শহরে কঠোর বিধিনিষেধ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে ফ্রান্সে আবারও বিক্ষোভে নেমেছেন শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যে ১৩৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৭০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
শনিবার(২৪ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে ধাতব বল, সিসার গুলি, আতশবাজি, গুলতি, দেশীয়ভাবে তৈরি অস্ত্র, একটি জাপানি তলোয়ার ও এয়ারসফট অস্ত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।
লিওঁতে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা
দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিওঁতে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ এলাকায় প্রায় দেড়শ মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা স্থানীয় একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সাঁজোয়া যান ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রাজধানী প্যারিসেও বিক্ষোভ শুরুর আগে শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোকে মিছিলের স্থান পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় পুলিশ। পরে মিছিলটি শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে সরিয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পোর্তে দ্য ইতালি এলাকায় নেওয়া হয়।
নতুন কর্মসূচি ইয়েলো ভেস্টসের
প্যারিসে বিক্ষোভ শুরুর পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইয়েলো ভেস্টস আন্দোলন। আগামী ৩১ অক্টোবর সংসদ ভবনসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন সিটি হলের সামনে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
আট বছর আগে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সরকারের বিরুদ্ধে সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আলোচনায় এসেছিল ইয়েলো ভেস্টস। এবারও পুলিশের নির্দেশ না মানার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
কট্টর ডানপন্থীদের সম্মেলন ঘিরে বিক্ষোভ
ফ্রান্সের ওর্লেয়াঁ শহরে কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালির (আরএন) বার্ষিক সম্মেলনের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করেছেন অন্তত ১১ হাজার মানুষ। দলটির নেত্রী মেরিন লা পেনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট মাখোঁ ও বিরোধী নেত্রী লা পেন—দুজনেরই সমালোচনা করেন।
ওই সম্মেলন থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচারাভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে লা পেনের।
নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা
গত সপ্তাহের বিক্ষোভে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার আগেভাগেই নিরাপত্তা জোরদার করেছে ফরাসি সরকার। ৭০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বাড়ানো, জাদুঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং কয়েকটি শহরে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিছু এলাকায় স্থানীয়ভাবে কারফিউও জারি করা হয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন ফরাসি প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
বিপি/টিআই
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সতর্কতা জারি
সঙ্গীত একাডেমি