ভার্জিনিয়ায় বাইটপোর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানে প্রবাসীদের ঢল
নকীব খান ও প্রতীক হাসানের মনমুগ্ধকর পরিবেশনা
ভার্জিনিয়ায় বাইটপোর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান
নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হান্ট পার্কে গত রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো)-এর উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত মেজবানে হাজারো প্রবাসীর ঢল নামে। মেজবান অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান ও জনপ্রিয় শিল্পী প্রতীক হাসানের পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে পড়েন উপস্থিত হাজারো দর্শক-শ্রোতা।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবারের পাশাপাশি খেলাধুলা, গান, নৃত্য, ফ্যাশন শো ও কনসার্টের সমন্বয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজন ডিএমভি এলাকার অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশি কমিউনিটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। শুধু ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া (ডিএমভি) এলাকা থেকেই নয়, পেনসিলভানিয়া, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক, টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মেজবানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বাইটপোর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কবি ও লেখক সামছুদ্দীন মাহমুদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইফুল্লাহ খালেদ এবং বাইটপোর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট পরিচালক স্যাম রিয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাক্টিভিস্ট ও সিপিএ রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি চিটাগং ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ফেডারেশন, ইউএসএ-এর সভাপতি, রুট ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট এবং সিরাজুল আলম খান সেন্টারের চেয়ারম্যান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনেটর সাদ্দাম আজলান সেলিম; ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক; মনমাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্কের ডিন এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সোশ্যাল ওয়ার্কসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. গোলাম এম. মাতব্বর; কাইফ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ড. ফাইজুল ইসলাম এবং ই-লার্নিংয়ের পথিকৃৎ, চট্টগ্রামের খান বাড়ির সন্তান অধ্যাপক ড. বদরুল হুদা খান।
দিনব্যাপী আয়োজনের শুরুতে ছিল নানা ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা। খুরশীদ সাব্বিরের পরিচালনায় দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কুকি রেস, মার্বেল/স্পুন রেস, রিং থ্রুসহ বিভিন্ন খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘আঙ্কেল স্যাম’ পোস্টারে মোচ লাগানোর মজার প্রতিযোগিতা। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বড়রাও এসব আয়োজনে অংশ নেন এবং দর্শকরা তা উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ১টায় অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেজবানি খাবার। বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে খাবার পরিবেশন। প্রবাসের মাটিতে চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় রন্ধন ঐতিহ্যের স্বাদ নিতে মেজবানের খাবার ঘিরে অতিথিদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ।

আয়োজকদের মতে, মেজবান আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু খাবার পরিবেশন নয়; প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের, বিশেষ করে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াও ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। ‘চল মেজ্জানে’ দিয়ে সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন কচি খান।
অধ্যাপক ড. বদরুল হুদা খানের রচনায় উদ্বোধনী সংগীত ‘চল মেজ্জানে’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয়। এতে অংশ নেন বাইটপোর শিল্পীরা।
এরপর একে একে গান পরিবেশন করেন মাহবুব হোসেন অরুণ, আদিল রহমান, শোয়েব রহমান, ডেভিড গোরস্কি ও সীমা খান।
নৃত্য পরিবেশন করেন নতুন প্রজন্মের শিল্পী সুদীতি সরকার ও অদিতি সরকার। ফ্যাশন শোতে অংশ নেন সারা, দিশা ও স্মিতা দম্পতি। স্থানীয় ও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের এসব পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করে।

এরপর মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। রেনেসাঁসহ বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক তাঁর জনপ্রিয় গান নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হলে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।
প্রায় এক ঘণ্টার পরিবেশনায় নকীব খান দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। তাঁর পরিচিত ও জনপ্রিয় গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত অনেক দর্শক-শ্রোতা।
ডিএমভি এলাকায় নকীব খানের এ পরিবেশনা অনুষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়।
নকীব খানের পর মঞ্চে আসেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসান। তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনায় উৎসবের আবহ আরও জমে ওঠে। একের পর এক গানে তিনি উপস্থিত দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন।
একদিকে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবার, অন্যদিকে নকীব খান ও প্রতীক হাসানের সংগীত—এর সঙ্গে নতুন প্রজন্মের নাচ, গান ও ফ্যাশন শোর সমন্বয় পুরো আয়োজনকে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ দেয়।
অনুষ্ঠান সফল করতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন দীন খালেদ, শরীফ আহমেদ, তানভীর আজিজ, স্বপন ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার জাহানারা ভূঁইয়া, কাজী আক্তার বাঁধন, মো. কাজল, সারা গোরস্কি, মিষ্টি সরকার, খুরশীদ সাব্বির, কচি খান, মোহাম্মদ নাইম উদ্দীন অভি, সাইফুল্লাহ খালেদ, এম. এ. করিম, মোহাম্মদ মোল্লা, মামুন মোতালিব, মো. হাসান, কামাল, মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ মিয়া সারওয়ার, আবদুল কোরেশী, হারুনুর রশীদ, শফিক মোল্লাহ ও স্যাম রিয়া।
আয়োজকদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগীদের প্রচেষ্টায় বিপুলসংখ্যক মানুষের এ আয়োজন পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি শিল্পী নকিব খানকে লাইফটাইম এচিভমেন্ট প্রদান করা হয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শেষ পর্যন্ত হাজারো দর্শক-শ্রোতা অনুষ্ঠানস্থলে থেকে পরিবেশনা উপভোগ করেন। বিপুল উপস্থিতির মধ্যেও পুরো আয়োজনকে সুশৃঙ্খল, মানসম্মত ও সময়ানুবর্তী রাখার চেষ্টা ছিল আয়োজকদের।
আয়োজকরা জানান, মেজবানের মাধ্যমে প্রবাসে শুধু চট্টগ্রামের খাবারের ঐতিহ্য তুলে ধরা নয়, বরং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের একটি মেলবন্ধন তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ আকর্ষণ ছিল র্যাফেল ড্র। এতে তিনজন ভাগ্যবান বিজয়ী যথাক্রমে ডায়মন্ড রিং, টেলিভিশন ও ল্যাপটপ জিতে নেন।
ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেজবানি ভোজ থেকে শুরু করে খেলাধুলা, নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নকীব খান ও প্রতীক হাসানের কনসার্ট—সব মিলিয়ে ভার্জিনিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে বাইটপোর এ আয়োজন পরিণত হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক বৃহৎ মিলনমেলা ও উৎসবে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে মার্কিন সিনেটের লড়াইয়ে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী কারিশমা মানজুর
সঙ্গীত একাডেমি