আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে রয়টার্স দেখতে পেয়েছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থাগুলো এক্সকে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি পোস্ট বা অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলতে আদেশ করেছে।
এর মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি আদেশ দিয়েছে ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার। এ সংস্থাটিই ‘সহযোগ’ ওয়েবসাইট তৈরি করেছে। সংস্থাটি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। সে মন্ত্রণালয়ের মাথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মোদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি ক্ষমতাসীন বিজেপির ক্ষমতাবান নেতা।
এক্সের বিরুদ্ধে মামলা মোকাবিলায় ভারত সরকার ৯২ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সাইবার ক্রাইম ইউনিট। সেখানে বলা হয়েছে, এক্স ‘অবৈধ বিষয়বস্তু’কে স্থান দিচ্ছে। এ ইউনিট ভুল তথ্য, গুজব-ঠগবাজি, এবং শিশুদের যৌন নির্যাতনের বিষয়বস্তুসহ তাদের কাছে অবৈধ মনে হওয়া প্রায় ৩০০টি পোস্ট বিশ্লেষণ করেছে।
ভারত সরকারের অভিযোগ, এক্স হিংসা ও বিভাজন ছড়ানোর মাধ্যম হয়ে উঠেছে, যা সমাজের শান্তিকে বিপন্ন করছে। এ ছাড়া এক্সে প্রচলিত ‘মিথ্যা খবর’ আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে সমস্যা (অনির্দিষ্ট) তৈরি করছে। এক্সের করা মামলার সরকারি জবাবে ভুল তথ্য ছড়ানোর উদাহরণ গুরুত্ব পেয়েছে।
গত এপ্রিলে চেন্নাই পুলিশ এক্সকে ‘গভীরভাবে আপত্তিকর’ ও ‘উসকানিমূলক’ অনেক পোস্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে ছিল একটি কার্টুন, যেটা এখন আর দেখা যাচ্ছে না। কার্টুনে ‘মুদ্রাস্ফীতি’ লেবেল দিয়ে একটি লাল ডাইনোসর আঁকা ছিল। সেখানে আরও দেখানো হয়েছে, মোদি ও তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দাম নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন।
সে মাসেই অন্য একটি কার্টুনও সরিয়ে ফেলতে বলে পুলিশ। ওই কার্টুনে রাজ্যের বন্যা মোকাবিলায় অপর্যাপ্ত প্রস্তুতিকে উপহাস করে তলায় ফুটো হওয়া এক নৌকা আঁকা রয়েছে। চেন্নাই পুলিশ বলেছিল, ওই পোস্টের কারণে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তবে আদালতে বিচারককে এক্স কর্তৃপক্ষ বলেছে, ওই কার্টুন নভেম্বর মাসে পোস্ট করা হয়েছিল। কয়েক মাস পরে এটাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই। ওই পোস্ট এখনো অনলাইনে আছে।