ভূমিসেবায় দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সাধারণ মানুষের কাছে ভূমিসংক্রান্ত বিষয় মানেই যেন হয়রানি, অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ—এ ধারণা বদলে দিতে ডিজিটাল, প্রযুক্তিনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে ভূমিসেবা মেলার।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনে এ মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি প্রথমবারের মতো অনলাইনে অভিযোগ গ্রহণ ও সমাধান ব্যবস্থাপনার উদ্বোধনও করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি শুধু এক টুকরো সম্পদ নয়, এটি মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, নির্ভরতা এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি। স্পষ্ট করে বলতে চাই, সেবা প্রদান জনগণের প্রতি কোনো করুণা নয়; বরং সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য একটি হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
দেশে বিভিন্ন পর্যায়ের আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলিয়ে ৪৭ লাখেরও বেশি বিচারাধীন মামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে জমিজমা-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এই মুহূর্তে আদালতের বিচারাধীন মামলার দ্রুততম নিষ্পত্তিই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে প্রচলিত আদালতের বাইরেও জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত কিংবা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া জরুরি।
এ সময় প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি উক্তি উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আলোচনা, মধ্যস্থতা বা সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে আদালতে যেমন জট কমবে, তেমনি দ্রুত সময়ে সমস্যা সমাধান করাও সহজ হবে। এতে বিরোধ শত্রুতায় রূপ নেবে না।
রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম সপ্তাহ থেকেই বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে মনোযোগ দিয়েছে বলে জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের জনগণ রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করে রাজনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করে জনগণকে সহায়তার লক্ষ্যে আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগেই ৩১ দফা এবং সর্বশেষ নির্বাচনি ইশতেহারে বিষয়টি উল্লেখ করেছিলাম। আজ থেকে সারাদেশে শুরু হওয়া ভূমি সেবা মেলার মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে দেওয়া আরও একটি নির্বাচনি ওয়াদা পূরণ করতে যাচ্ছে।
কৃষিজমির অপব্যবহার রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক ফসলি, দুই ফসলি বা তিন ফসলি জমির ব্যবহার নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। তবে আজ থেকে সারাদেশের জেলা-উপজেলায় শুরু হওয়া এই ভূমি মেলার মাধ্যমে জনগণ নিঃসন্দেহে উপকৃত হবেন। কারণ, এই মেলায় ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান গ্রহণ এবং ভূমি-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির সুযোগ থাকছে।
ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে ভার্চুয়ালি ও সশরীরে যুক্ত হওয়া সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ ভূমি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি