৫ আগস্ট ২০২৬

যুদ্ধবিরতির আট মাস পরও গাজায় পড়ে আছে মরদেহ, শিশুদের কামড়াচ্ছে ইঁদুর

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
যুদ্ধবিরতির আট মাস পরও গাজায় পড়ে আছে মরদেহ, শিশুদের কামড়াচ্ছে ইঁদুর

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হওয়ার পর কেটে গেছে দীর্ঘ আটটি মাস। কিন্তু গাজা উপত্যকার শান্তির বিন্দুমাত্র আভাস নেই। উলটো সেখানে ইসরাইলি হামলা ও চরম অমানবিক বাস্তুচ্যুতির সংকট দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে।

অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজার হাজার মরদেহ নিখোঁজ অবস্থায় পড়ে আছে। আর লাখ লাখ মানুষের আশ্রয়শিবিরগুলোতে এখন বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইঁদুর। যেগুলো রাতে ঘুমন্ত শিশুদের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করছে।

মঙ্গলবারও ইসরাইলের হামলায় গাজায় একজন নিহত ও ৫ জন আহত হয়। খবর সিএনএনের।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ বর্তমানে বাস্তুচ্যুত। দীর্ঘ আট মাস ধরে তারা অপরিসর, বাতাস চলাচলের অযোগ্য অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় এবং বর্জ্য অপসারণের যন্ত্রপাতি না থাকায় চারপাশ ময়লা ও পয়ঃবর্জ্যরে পানিতে ভেসে যাচ্ছে।

গাজা সিটি একাই এখন ২৫ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনার স্তূপ পরিণত হয়েছে। এই চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ আশ্রয়শিবিরে চর্মরোগ ও মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সেখানে মশা, মাছি, নেকড়ে ও ইঁদুরের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে।

‘মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টাইনিয়ানস’ (গঅচ)-এর জরুরি বিভাগের প্রধান স্যালি সালেহ জানিয়েছেন, বড় বড় ইঁদুর এখন সরাসরি মানুষের ওপর, বিশেষ করে রাতে ঘুমন্ত শিশু, নবজাতক এবং প্রতিবন্ধী মানুষদের ওপর আক্রমণ করছে। অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের ইঁদুরের কামড়ে আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

শুধু তা-ই নয়, এই ইঁদুরগুলো ত্রাণের চাল-ডালের বস্তা কেটে খাবার নষ্ট করছে। দীর্ঘ দুই বছরের বোমা হামলা ও অবরোধের পর, গত বছরের ১১ অক্টোবর মার্কিন ও ইরানি মধ্যস্থতায় ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে দুই পর্বের একটি চুক্তি সই হয়েছিল।

শর্ত অনুযায়ী গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রিকরণ এবং একটি নতুন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি বা আন্তর্জাতিক বাহিনীর হাতে গাজার শাসনভার হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু আট মাস পেরিয়ে গেলেও এর কোনোটিই বাস্তবায়ন হয়নি।  তথাকথিত এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় মৃত্যুর মিছিল থামেনি।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় অন্তত ১,০৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩,৪২৯ জনেরও বেশি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চুক্তি সই হওয়ার পর থেকে গাজায় গড়ে প্রতিদিন একটি করে শিশু প্রাণ হারাচ্ছে।

জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গত জুন মাসে তাদের প্রতিবেদনে উলে­খ করেছে, ইসরাইল গাজায় শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে মূলত ‘গণহত্যা’ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইসরাইল এই প্রতিবেদনকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

 বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি