যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ মিলিয়ন ডলারের পিপিপি লোন জালিয়াতির পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
ইলাইন অ্যাঞ্জিন এসকো-এর বিরুদ্ধে ওয়্যার জালিয়াতির ষড়যন্ত্র
ছাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ মহামারির ত্রাণ তহবিল থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগে এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স’ তালিকাভুক্ত এক পলাতক আসামিকে জ্যামাইকা থেকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, ৪১ বছর বয়সী ইলাইন অ্যাঞ্জিন এসকো-এর বিরুদ্ধে ওয়্যার জালিয়াতির ষড়যন্ত্র, অর্থপাচারের ষড়যন্ত্র এবং অর্থপাচারের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এসকো এমন একটি জালিয়াতি চক্রের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন, যারা কোভিড-১৯ মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের সহায়তার জন্য গঠিত সরকারি কর্মসূচি থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারেরও বেশি দাবি করেছিল।
অভিযোগ গঠনের পর ২০২৫ সালের মে মাসে আদালতে হাজির না হয়ে এসকো পালিয়ে যান। পরে তিনি জ্যামাইকায় ‘হার্লি নিউম্যান’ নামে ভুয়া পরিচয়ে বসবাস করছিলেন। এফবিআইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জ্যামাইকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে বলে জানান এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল।
ফ্লোরিডায় এসকোকে ফিরিয়ে আনার পর ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে বলেন, 'এই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জালিয়াত অভিযুক্ত ব্যক্তি জাতীয় সংকটের সময় বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বরাদ্দ গুরুত্বপূর্ণ কোভিড সহায়তা তহবিল থেকে কোটি কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত।'
তিনি আরও বলেন, “দেশ ছেড়ে পালিয়ে তিনি ভেবেছিলেন বিচার এড়িয়ে যেতে পারবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি কর্মসূচির অপব্যবহারকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ প্রয়োজনে যত সময়ই লাগুক বা তারা পৃথিবীর যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
আদালতের নথি অনুযায়ী, এসকো ও তার সহযোগীরা পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি), রেস্টুরেন্ট রিভাইটালাইজেশন ফান্ড (আরআরএফ), শাটার্ড ভেন্যু অপারেটরস গ্রান্ট (এসভিওজি) এবং ইকোনমিক ইনজুরি ডিজাস্টার লোন (ইআইডিএল) কর্মসূচির আওতায় ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারেরও বেশি তহবিলের জন্য আবেদন করেছিলেন।
তদন্তে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ পরিমাণ ফেডারেল সহায়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা অস্তিত্বহীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ভুয়া কর্মচারী, জাল রাজস্ব তথ্য এবং মিথ্যা পরিচালনাকারীর তথ্য দেখিয়ে আবেদন জমা দেন।
মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জাল আবেদনগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অভিযুক্তরা ভুয়া কর নথি, জাল ব্যাংক রেকর্ড এবং অন্যান্য মিথ্যা আর্থিক কাগজপত্র তৈরি করেছিলেন, যার ওপর নির্ভর করেই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মসূচির প্রশাসকরা ঋণ ও অনুদান অনুমোদন করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, এই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে এসকোই ছিলেন শেষ পলাতক আসামি।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বিচার শেষে ফেডারেল জুরি আলফ্রেড ডেভিস, শের ডেভিস এবং লাটোয়া ক্লার্ককে দোষী সাব্যস্ত করে। এর আগে জেমস ম্যাকগাও ও জিনো জর্ডান দোষ স্বীকার করেছিলেন।
পরবর্তীতে আদালত আলফ্রেড ডেভিসকে ২৩৫ মাস, শের ডেভিসকে ৮৭ মাস, লাটোয়া ক্লার্ককে ৭০ মাস, জিনো জর্ডানকে ৪৬ মাস এবং জেমস ম্যাকগাওকে ৪২ মাসের কারাদণ্ড দেন।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে ভারতে মুসলিম দম্পতিকে রাস্তায় ফেলে মারধরের অভিযোগ
সঙ্গীত একাডেমি, কানেকটিকাট
সঙ্গীত একাডেমি