৪ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই'র অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের ৪১ শতাংশই নিরপরাধ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই'র অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের ৪১ শতাংশই নিরপরাধ

অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসী

নোমান সাবিত: সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের প্রায় ৪১ শতাংশেরই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই নতুন এক তথ্য বিশ্লেষণে এমনটাই উঠে এসেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ ছিল না। এই তথ্য নির্বাসন ডেটা প্রকল্প-এর একটি তথ্য স্বাধীনতা আইন (এফওআইএ) অনুরোধের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় এবং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট তা বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করে। প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট।
এই পরিসংখ্যান দেখায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৌশল নরম করার ঘোষণা সত্ত্বেও ফেডারেল এজেন্টরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরাধবিহীন ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করে চলেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জানুয়ারির শেষ দিকে জানায়, তারা অভিবাসন প্রয়োগে “কিছুটা নমনীয়তা আনবে। একই সময়ে 'বর্ডার জার' টম হোমান বলেন, অগ্রাধিকার দেওয়া হবে অপরাধী অভিবাসী, জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, 'আপনি যদি অবৈধভাবে দেশে থাকেন, তাহলে আপনি কখনোই তালিকার বাইরে নন।
তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে গ্রেপ্তারদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল, আর ২৯ শতাংশের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলা ছিল। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগের ধরন উল্লেখ করা হয়নি।
প্রশাসন শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে 'সবচেয়ে বিপজ্জনক' ব্যক্তিদেরই গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট অপরাধী অভিবাসীদের ছবি প্রদর্শন করতেন, আর প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে অবৈধ অভিবাসীদের হাতে নিহত নাগরিকদের ঘটনা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: ২০২৫ সালে লেকেন রাইলি আইনে ১৭ হাজার ৫০০ অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার
তবে সংবাদ প্রতিবেদন ও তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা অভিবাসীদেরই হঠাৎ করে কমিউনিটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়—ক্যানসার থেকে সেরে ওঠা এক মার্কিন শিশুকে তার অনথিভুক্ত বাবা-মায়ের সঙ্গে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে। আরেক ঘটনায়, পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে তার বাবার সঙ্গে আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আবার, কোনো গ্রেপ্তার রেকর্ড না থাকা হন্ডুরাসের এক মাকে তার চার সন্তানের সঙ্গে আটক করা হয়।
এছাড়া গত এক বছরে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের মতো ছোটখাটো অপরাধে অভিযুক্ত হাজারো মানুষকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
সিবিএস নিউজ-এর প্রাপ্ত অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ গ্রেপ্তারকৃত অভিবাসীর মধ্যে ১৪ শতাংশেরও কমের বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের অভিযোগ ছিল।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, প্রশাসনের নির্ধারিত কোটা পূরণের চাপও অনেক অপরাধবিহীন ব্যক্তির গ্রেপ্তারের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার প্রতিদিন ৩ হাজার আইসিই গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন।
এই লক্ষ্য পূরণে কর্মকর্তাদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা বিচারাধীন মামলা না থাকা ব্যক্তিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি