যুক্তরাষ্ট্রে ছাত্রের গুলিতে আহত শিক্ষিকাকে ১ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদান
ইমা এলিস: যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ছয় বছরের এক শিক্ষার্থীর গুলিতে আহত এক সাবেক শিক্ষিকা তার সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা জিতে ১ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) জুরি বোর্ড রায় দেয় যে সহকারী প্রধান শিক্ষক ইবনি পার্কার বারবার সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক থাকার বিষয়টি উপেক্ষা করেছিলেন।
এই রায় দেওয়া হয়েছে ভার্জিনিয়ার নিউপোর্ট নিউজের রিচনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক পার্কারের বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রথম শ্রেণির ক্লাসরুমে পাঠদানের সময় অ্যাবি জ্ভারনার নামের ওই শিক্ষিকা গুলিবিদ্ধ হন। তিনি মামলায় ৪ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়েছিলেন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর জ্ভারনার প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে ছিলেন, ছয়টি অস্ত্রোপচার করতে হয়, এবং এখনো তার বাম হাত পুরোপুরি সচল নয়। গুলি তার হৃদপিণ্ডের খুব কাছে গিয়ে লাগে এবং এখনো তার দেহে রয়ে গেছে।
রায় ঘোষণার পর জ্ভারনার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে তার আইনজীবী ডায়ান টস্কানো বলেন, “এই রায় স্পষ্ট বার্তা দেয়—স্কুলে যা ঘটেছে তা ভুল ছিল এবং তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। নিরাপত্তা অবশ্যই স্কুলে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেতে হবে। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।”
এই মামলায় পার্কারই একমাত্র বিবাদী ছিলেন। এর আগে আদালত স্কুল সুপারিনটেনডেন্ট ও প্রধান শিক্ষকের নাম মামলার তালিকা থেকে বাদ দেন।
এই গুলির ঘটনায় পুরো সম্প্রদায় ও দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়—এত অল্প বয়সী একটি শিশু কীভাবে বন্দুক হাতে পেয়ে শিক্ষককে গুলি করতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
মামলায় বলা হয়, পার্কারের দায়িত্ব ছিল শিক্ষিকা জ্ভারনারসহ অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে যখন তাকে শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক থাকার কথা জানানো হয়েছিল। জ্ভারনারের আইনজীবীরা জানান, বেশ কয়েকজন শিক্ষক পার্কারকে জানিয়েছিলেন যে শিশুটির ব্যাকপ্যাকে বন্দুক আছে, কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।
জ্ভারনারের আইনজীবী টস্কানো বলেন, “কে-ই বা ভাবতে পারে যে ছয় বছরের একটি শিশু স্কুলে বন্দুক আনবে ও তার শিক্ষককে গুলি করবে? কিন্তু ড. পার্কারের কাজই ছিল সেটি বিশ্বাস করা, তদন্ত করা এবং সত্য উদঘাটন করা।”
পার্কার মামলায় সাক্ষ্য দেননি। তার আইনজীবী ড্যানিয়েল হোগান জুরিদের সতর্ক করে বলেন, ঘটনাটির পর পশ্চাদপট পক্ষপাত দিয়ে রায় না দিতে। তিনি বলেন, আপনারা দেখবেন এটা আদৌ অনুমানযোগ্য ছিল কি না। এই প্রশ্নটাই মামলার কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি আরও বলেন, কোনো ঘটনার পর অতীতের দিকে দৃষ্টিপাত দিয়ে অন্যের সিদ্ধান্ত বিচার করা আইনসম্মত নয়, সেই মুহূর্তে যেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেটাই বিবেচনায় নিতে হবে।
গুলির ঘটনা ঘটেছিল শিশুটি দুই দিন আগে জ্ভারনারের ফোন মাটিতে আছাড় দেওয়ার কারণে যে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিল, সেই শাস্তি শেষে স্কুলে ফিরে আসার প্রথম দিনেই।
জ্ভারনার জানান, তিনি প্রথম বন্দুকের খবর পান রিসেস শুরুর আগে, যখন এক রিডিং স্পেশালিস্ট তাকে বলেন যে কয়েকজন শিক্ষার্থী এ বিষয়ে জানিয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পরই গুলির ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি তার শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হন, পরে স্কুল অফিসে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
তিনি আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, আমি ভেবেছিলাম আমি মারা গেছি, আমি স্বর্গে যাচ্ছি বা ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছি ভেবেছিলাম। তারপর হঠাৎ সব অন্ধকার হয়ে যায়। পরে চোখ খুলে দেখি দুজন সহকর্মী আমাকে সাহায্য করছেন, তখন বুঝতে পারি আমি আহত হয়েছি।
জ্ভারনার এখন আর স্কুল জেলায় কাজ করেন না এবং জানিয়েছেন, তিনি আর শিক্ষকতায় ফিরবেন না। বর্তমানে তিনি একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসমেটোলজিস্ট হিসেবে কাজ করছেন।
পার্কারের বিরুদ্ধে এখন আরও একটি ফৌজদারি মামলা চলছে আটটি শিশু অবহেলার অভিযোগে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
গুলিবর্ষণকারী শিশুটির মা এরই মধ্যে শিশু অবহেলা ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে প্রায় চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। তদন্তে জানা যায়, শিশুটি ড্রয়ারে চড়ে মায়ের পার্স থেকে বন্দুকটি বের করেছিল, যা ড্রেসারের ওপর রাখা ছিল।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
২০ বছরের ডাক্তারি ছেড়ে রুটি বিক্রির ব্যবসায়, এখন সুখী সেই নারী
বাংলাদেশসহ আরও ১৯টি দেশের বিশেষায়িত ওষুধের ওপর শুল্ক মওকুফ করল যুক্তরাষ্ট্র।
সঙ্গীত একাডেমি