মিনারা হেলেন: নিউ ইয়র্কের হারলেমে ৮ মাসের গর্ভবতী সাবেক প্রেমিকাকে তার শিশুদের সামনেই গুলি করে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে ৪০ বছর থেকে আমৃত্যু রাজ্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ম্যানহাটন জেলা অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ব্র্যাগের বক্তব্য অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী শানিস ইয়ং ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে নিজের বেবি শাওয়ার অনুষ্ঠান শেষে ওয়েস্ট ১২৮তম স্ট্রিট ও ফ্রেডেরিক ডগলাস বুলেভার্ড সংলগ্ন তার অ্যাপার্টমেন্টের সামনে গাড়ি থেকে উপহার নামাচ্ছিলেন, তখনই জাস্টিন সোরিয়ানো সেখানে এসে তার বর্তমান প্রেমিককে আক্রমণ করে এবং তাকে ধাওয়া করে ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে।
ব্র্যাগ জানান, সোরিয়ানো কালো পোশাক পরা, মুখে মাস্ক এবং হাতে ল্যাটেক্স গ্লাভস পরে ছিলেন এবং সঙ্গে ছিল একটি লোডেড আগ্নেয়াস্ত্র। প্রায় এক মিনিট পর দুজন আবার রাস্তায় ফিরে এলে শানিস ইয়ং হস্তক্ষেপ করে সোরিয়ানোর উদ্দেশে বলেন, “তুমি এখানে কী করছো?” উত্তরে, সোরিয়ানো আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে একই প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি করে তিনটি গুলি ছোড়ে, যার মধ্যে দুটি গুলি ইয়ংয়ের মুখে লাগে এবং তা মস্তিষ্কে প্রবেশ করে, বলেন ব্র্যাগ। তাকে দ্রুত হারলেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি আট মাসের গর্ভবতী ছিলেন এবং গর্ভস্থ শিশুকেও রক্ষা করা যায়নি।
ঘটনার সময় চারজন শিশু, যার মধ্যে ইয়ংয়ের দুটি সন্তান ছিল, গাড়ির ভেতরে ছিল এবং তারা পুরো ঘটনার সাক্ষী হয়।
জেলা অ্যাটর্নি ব্র্যাগ বলেন, “জাস্টিন সোরিয়ানোকে এমন একটি আনন্দঘন দিনেই শানিস ইয়ংকে নির্মমভাবে হত্যার জন্য দীর্ঘ রাজ্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। এই ভয়াবহ সহিংসতা চার শিশুর সামনে সংঘটিত হয়, যারা তাদের মাকে চোখের সামনে মারা যেতে দেখে। শানিস ইয়ংয়ের পরিবার ও প্রিয়জনদের ওপর এর যে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত পড়েছে, তা আজও অনুভব করা যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই দণ্ড যেন অন্তত কিছুটা হলেও বিচার প্রতিষ্ঠার বার্তা দেয়, এমনটি আমরা আশা করি।”
২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর, নিউ ইয়র্ক সুপ্রিম কোর্টের একটি জুরি দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা ও অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ সব অভিযোগে জাস্টিন সোরিয়ানোকে দোষী সাব্যস্ত করে।
[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
বিপি।এসএম