১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতি: ব্রুকলিনের অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার মালিকের কারাদণ্ড

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতি: ব্রুকলিনের অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার মালিকের কারাদণ্ড

ব্রুকলিনের ৫৫ বছর বয়সী জাকিয়া খানের ৭৬ মাসের কারাদন্ড

আবু সাবেত: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে দুটি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার সেন্টার ও একটি হোম হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতি ও অবৈধ কিকব্যাক চক্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে এক নারীকে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আদালত ওই নারীকে ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত ৫০ লাখ ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব সম্পদের মধ্যে দুটি বাড়ি, নগদ অর্থ এবং তার বাড়িতে তল্লাশির সময় জব্দ করা স্বর্ণালংকার রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ড বলেন, বয়স্কদের সহায়তার জন্য পরিচালিত মেডিকেইড কর্মসূচির অপব্যবহারকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র বলেন, এই সাজা জালিয়াতির বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা। করদাতাদের অর্থ রক্ষায় দুর্নীতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেলের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল মিরান্ডা এল. বেনেট বলেন, সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার ও হোম হেলথ সেবার উদ্দেশ্য বয়স্কদের সহায়তা করা, জালিয়াতদের ব্যক্তিগতভাবে লাভবান করা নয়।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) নিউ ইয়র্কের ভারপ্রাপ্ত স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ পিট গিজাস বলেন, খান ও তার সহযোগীরা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ মেডিকেইডের লাখ লাখ ডলার আত্মসাৎ করেছেন। তারা ডে-কেয়ার প্রতিষ্ঠান স্থাপন করলেও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার পরিবর্তে নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও সম্পত্তির মাধ্যমে নিজেদের লাভবান করেছেন।

এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, জাকিয়া খান ঘুষ ও কিকব্যাকের মাধ্যমে মেডিকেইড কর্মসূচি থেকে ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অর্থ সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সহায়তায় ব্যবহারের কথা ছিল।

যেভাবে চলত জালিয়াতি

আদালতের নথি অনুযায়ী, ব্রুকলিনের ৫৫ বছর বয়সী জাকিয়া খান দুটি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার সেন্টারের মালিক ছিলেন- হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার ইনকর্পোরেটেড এবং ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার ইনকর্পোরেটেড।

এ ছাড়া তার মালিকানায় রেসপন্সিবল কেয়ার স্টাফিং ইংক. নামে একটি হোম হেলথ কেয়ার ফিসক্যাল ইন্টারমিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান ছিল। জালিয়াতির অর্থ গ্রহণ ও এর উৎস গোপন করতে তিনি তানউই সার্ভিসেস ইনকর্পোরেটেড  নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতেন।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, আনুমানিক অক্টোবর ২০১৭ থেকে জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত একটি বিপণনকারী চক্র কিকব্যাক ও ঘুষের বিনিময়ে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের খানের সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে পাঠাত।

খান ও তার সহযোগী মার্কেটাররা মেডিকেইড সুবিধাভোগীদেরও ঘুষ ও কিকব্যাক দিতেন, যাতে তারা বিভিন্ন সেবার জন্য নাম নিবন্ধন করেন। পরে এসব সেবা দেওয়া হয়েছে দাবি করে মেডিকেইডের কাছে বিল জমা দেওয়া হতো। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, দাবি করা সেবাগুলো বাস্তবে সেভাবে প্রদান করা হয়নি।

মেডিকেইড থেকে পরিশোধ প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার

২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হ্যাপি ফ্যামিলি ও ফ্যামিলি সোশ্যাল মেডিকেইডের কাছে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বিল জমা দেয়। এসব মিথ্যা ও প্রতারণামূলক দাবির ভিত্তিতে মেডিকেইড প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করে।

খান ও তার সহযোগীরা জালিয়াতির অর্থ পাচারের জন্য একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নগদ অর্থ সংগ্রহ করে মার্কেটার ও মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের কিকব্যাক ও ঘুষ দেওয়া হতো।

২০২৫ সালের আগস্টে জাকিয়া খান স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে প্রতারণা ও স্বাস্থ্যসেবা কিকব্যাক প্রদানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।

এইচএইচএস-ওআইজি, এইচএসআই নিউ ইয়র্ক যৌথভাবে মামলাটির তদন্ত করে।

ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের হেলথ কেয়ার ফ্রড সেকশনের ডেপুটি চিফ প্যাট্রিক জে. ক্যাম্পবেল এবং ট্রায়াল অ্যাটর্নি লিওনিড স্যান্ডলার মামলাটি পরিচালনা করেন। সম্পদ বাজেয়াপ্তসংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করেন নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি ক্লেয়ার কেডেশিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে হেলথ কেয়ার ফ্রড স্ট্রাইক ফোর্স কর্মসূচির আওতায় ৬,২০০ জনের বেশি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে ফেডারেল স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ও বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

Jalalabad Summer Bash


Jalalabad Summer Bash

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি