আগামীকাল আনোয়ার জাহিদের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী
সাদ্দিমোহাম্মদ ভূঁইয়া
আগামীকাল ১৩ আগস্ট, ২০২৬ প্রাজ্ঞ সাংবাদিক, মেধাবী রাজনীতিক, জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যের অন্যতম রুপকার এবং সাবেক মন্ত্রী জননেতা আনোযার জাহিদের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৮ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।
আনোয়ার জাহিদ ছাত্রজীবনে নিখিল পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ছাত্রলীগের ঝিনাইদহ মহকুমার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলনে ঝিনাইদহে ছাত্রআন্দোলন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এনডিপি গঠন করেন। ১৯৯০ সালে বিএনডিপি গঠন করেন।
১৯৭৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন ও ঘোষণাপত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন এবং ৭ দলীয় ও ৪ দলীয় জোট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আনোয়ার জাহিদ সাংবাদিক এবং সাংবাদিকদের নেতা হিসেবেও অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। ১৯৫৬ সালে দৈনিক ইত্তেহাদের সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮ সালে অর্ধ সাপ্তাহিক ধূমকেতুর সহকারী সম্পাদক, ১৯৫৯ সালে দৈনিক সংবাদের সহকারী সম্পাদক, ১৯৬০ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের সহকারী সম্পাদক, ১৯৬৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার সম্পাদক, ১৯৬৬ সালে ইংরেজি সাপ্তাহিক হলিডের উপ-সম্পাদক, ১৯৭০ সালে সাপ্তাহিক গণবাংলা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, ১৯৭২ সালে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি পিপলসের বার্তা সম্পাদক ও বাংলাদেশ টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক ইনকিলাবের উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬২, ৬৩, ৬৪, সালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজ) সাধারণ সম্পাদক, ১৯৬৫ ও ৬৬ সালে সহ-সভাপতি, ১৯৭৮ ও ৮৩ সালে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মসূচী : জননেতা আনোয়ার জাহিদের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় মীরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদ কবর জিয়ারত, শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।
জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী শক্তির ঐক্য ধরে রাখতে হবে
‘২০২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের পরও দেশের রাজনীতি আজও পথহারা বলেই মনে হচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি আর দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে ২০২৪এর গণআন্দোলন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হলেও, সেই দুর্নীতির মহাউৎসব থেকে জাতি এখনো মুক্তি পায় নাই। অন্যদিকে দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক, জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কলহের কারণে আবারো রাজনীতি জনগনের আস্থা হারিয়ে ফেলছে। সুবিধাবাদি আর লুটেরারা আবারো রাজনীতির নিয়ন্ত্রনের ভুমিকায় অবতির্ণ হচ্ছে। গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে যে পরিবর্তন সূচিত হয়েছে এর মাঝেই আনোয়ার জাহিদের দেখানো পথে রাজনীতিতে সংস্কার বাস্তবায়ন ছাড়া শুধু একটি নির্বাচন জাতির কোন কল্যাণ বয়ে আনবে না। জুলাই আন্দোলনের ফথ ধরেই বাংলাদেশকে কল্যাণ রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছে জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদ।
বুধবার (১২ আগস্ট) মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর অনুসারী প্রখ্যাত রাজনীতিক, প্রাজ্ঞ সাংবাদিক ও সাবেক মন্ত্রী জননেতা আনোয়ার জাহিদের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদ সভাপতি এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, ‘উজান স্রোতের যাত্রী জননেতা আনোয়ার জাহিদও শেষ জীবনে শিকার হয়েছিলেন তথাকতিথ ক্ষত রাজনীতির। সুস্থ ও মেধাভিত্তিক রাজনীতির এক ধ্রæব তারার নাম আনোয়ার জাহিদ। নীতিহীন রাজনীতির যুগে তিনি ছিলেন অনুস্মরণীয় ও অনুকরণীয়।’
নেতৃদ্বয় বলেন, ‘মরহুম আনোয়ার জাহিদ ছিলেন সংগ্রামী জাতীয়তাবাদী নেতা ও দেশপ্রেমিক। এক সময়ের খ্যাতিমান সাংবাদিক। তিনি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করলেও কারো সর্ম্পকে কুটুক্তি বা অশ্লিষ শব্ধ ব্যাবহার করতেন না। যা আজকের রাজনীতিতেই ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।’
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা’ ও ‘মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি’ বাতিল সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত
১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৩ আগস্ট : সততা আর মেধাবী রাজনীতির উজ্জল দৃষ্টান্ত আনোয়ার জাহিদ
সঙ্গীত একাডেমি