আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগানে দ্বীপ দখল করল হুথিরা
হুথিরা এখন আরেকটি দ্বীপের দিকে এগোচ্ছে।
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ যাকার দ্বীপ দখলে নিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এসময় হুথিরা ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক, ইসরাইলের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিতে থাকেন।
গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রকেট হামলার পর স্থল অভিযান চালিয়ে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথি বাহিনী। একই সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে তাদের সামরিক অগ্রযাত্রাও অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার হুথিরা কৌশলগত মোখা বন্দরনগরীও দখলে নেয়। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সামরিক সূত্রগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। মোখা বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
যাকার দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপটি লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এবং এর কাছাকাছি রয়েছে হানিশ দ্বীপপুঞ্জ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি। হুথিরা যদি উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়াতে পারে, তাহলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির ওপর চাপ তৈরির সক্ষমতা তাদের বাড়বে।
রয়টার্স জানিয়েছে, হুথিরা ইতোমধ্যে হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও অগ্রসর হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এএফপি আরও জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হুথি বাহিনী ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক, ইসরাইলের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিতে দিতে বন্দর শহরটিতে প্রবেশ করে।
হুথিদের এই অগ্রযাত্রার ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপ ও অন্যান্য বাজারে তেল ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অনেক।
ইয়েমেনে গত কয়েক দিনের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। এএফপির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহজুড়ে চলা সংঘাতে অন্তত ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। সংঘাতের কারণে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
এর আগে এএফপি জানিয়েছিল, কয়েক দিনের লড়াইয়ে নিহতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছিল এবং শত শত পরিবার নিজেদের ঘর ছেড়ে পালিয়েছিল।
এদিকে সৌদি আরবও হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে পাল্টা লড়াই করছে।
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি