আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ: ইতিহাসের যত আলোচিত ঘটনা
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম তীব্র এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাসে রয়েছে অসংখ্য নাটকীয় মুহূর্ত, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং স্মরণীয় ঘটনা। এমন এক মহারণের আগে আর্জেন্টিনা হারিয়েছে তাদের সাবেক অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিনকে। কয়েক দিন আগেই ৮৯ বছর বয়সে না–ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। আর তার বিদায়ের পরই বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
সবশেষ ২০০৫ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে দেখা হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। সেই ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে দুই দলের শেষ লড়াই হয়েছিল ২০০২ বিশ্বকাপে। প্রায় ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দল দুটি। সেই উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক এই দ্বৈরথের পাঁচটি বহুল আলোচিত অধ্যায়।
রাত্তিনকে মাঠ ছাড়াতে নেমেছিল পুলিশ
১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েম্বলিতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রিটলিনের সিদ্ধান্তে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ পান আর্জেন্টিনার অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিন। ভাষাগত সমস্যার কারণে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা জানতে দোভাষী চাইলেও তা মেলেনি। মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ মাঠে নেমে তাকে বাইরে নিয়ে যায়।

তখনও ফুটবলে হলুদ বা লাল কার্ডের প্রচলন ছিল না। এই ঘটনাই পরবর্তীতে ফুটবলে কার্ড ব্যবস্থার সূচনার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বার্তোনির ঘুষিতে ভেঙেছিল চেরির দাঁত
১৯৭৭ সালে লা বোম্বোনেরায় অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচেও দুই দলের লড়াই উত্তপ্ত রূপ নেয়। ম্যাচের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের ট্রেভর চেরির কঠিন ট্যাকলের জবাবে আর্জেন্টিনার ড্যানিয়েল বার্তোনি সরাসরি তার মুখে ঘুষি মারেন। এতে চেরির সামনের দুটি দাঁত ভেঙে যায়।

পরে দুজনকেই লাল কার্ড দেখানো হয়। সেই ম্যাচে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে লাল কার্ড দেখেছিলেন ট্রেভর চেরি।
পচেত্তিনোর ফাউল, বেকহ্যামের গোল
২০০২ বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়েও বিতর্কের জন্ম হয়। প্রথমার্ধের শেষদিকে আর্জেন্টিনার মরিসিও পচেত্তিনোর চ্যালেঞ্জে মাইকেল ওভেনকে ফাউল করা হয়েছে বলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা। সেই সুযোগ থেকে ডেভিড বেকহ্যাম গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন।

বহু বছর পর টটেনহ্যামের কোচ থাকাকালে পচেত্তিনো দাবি করেছিলেন, ওভেন আসলে ডাইভ দিয়েছিলেন এবং তিনি তাকে স্পর্শই করেননি।
বেকহ্যামের লাল কার্ড
১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে দুই দলের আরেকটি স্মরণীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এর আগে দ্বিতীয়ার্ধে দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন ডেভিড বেকহ্যাম।

১০ জনের ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে গেলেও সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই হার ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে আছে।
‘হ্যান্ড অব গড’ ও শতাব্দীর সেরা গোল
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় নিঃসন্দেহে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। গোলশূন্য অবস্থায় পিটার শিলটনের সঙ্গে লাফিয়ে উঠে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান দিয়েগো ম্যারাডোনা। রেফারি গোলের স্বীকৃতি দিলে জন্ম নেয় ফুটবল ইতিহাসের বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ মুহূর্ত।

এর মাত্র চার মিনিট পরই ম্যারাডোনা করেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককেও পরাস্ত করেন তিনি। সেই গোলটি পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে স্বীকৃতি পায়।
শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে সেই আসরেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়ে আলবিসেলেস্তেরা। সূত্র: যুগান্তর
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি