৩ এপ্রিল ২০২৬

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: একে একে পেরিয়ে গেল ৫০ বছর; জন্মের সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ। আনন্দের এই ক্ষণে স্মরণীয় সেই রক্তাক্ত লড়াই, যার মধ্যে দিয়ে বাঙালি পেয়েছে একটি দেশ, একটি পতাকা। দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনে নিষ্পেষিত, রিক্ত বাঙালি কি এমন মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল অসম একটি যুদ্ধে? কতটা দূরূহ ছিল স্বাধীনতার পথ? ঊনিশশ সাতচল্লিশ, ভারতীয় উপমহাদেশে অবসান ঘটে ব্রিটিশ শাসনের; কিন্তু তারপরও মুক্তি মেলেনি বাংলার মানুষের। ইংরেজ থেকে পাকিস্তানি- বন্দিদশার বদল শুধু।বাঙালির জীবন বাঁধা পরাধীনতার একই শেকলে। সেই শেকল ভাঙার মন্ত্রে বাঙালিকে জাগিয়ে তোলেন শেখ মুজিব, বাংলার মানুষ যাকে ভালোবেসে নাম দিয়েছে বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতার অমোঘ পথে চলা শুরু তখন থেকেই। সত্তরের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিজয় সরকার গঠনের পথ খুলে দিলেও পাকিস্তানিদের হঠকারিতায় আবারও আশাহত বাঙালি। এরপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ- সাতই মার্চ। শোষণমুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত বাঙালির স্বাধীনতার ডাক এসেছিল ১৯৭১ সালের এই দিনে। চারদিকে গুঞ্জন - বঙ্গবন্ধু সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারেন। তাই সকাল থেকেই তাই লাখো জনতার ভিড় তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)। বেলা সোয়া ৩টায় শেখ মুজিবুর রহমান সভামঞ্চে উপস্থিত হলে মূহুর্মূহু ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে প্রকম্পিত ঢাকার আকাশ-বাতাস। স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে ২৩ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু ছড়িয়ে দিলেন সেই মন্ত্র- “আমরা যখন মরতে শিখেছি; কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” কবি নির্মলেন্দু গুণের ভাষায় ‘তারপর থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের’। সেই রাতেই আওয়ামী লীগ ১০ দফার ভিত্তিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়। ঘটনাপ্রবাহ এগোতে থাকে চূড়ান্ত লগ্নের দিকে। বঙ্গবন্ধুর সেই বজ্রবাণীর পর ২৫ মার্চ ঢাকায় যে বিভীষিকা নামিয়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী; তা একটি প্রতিরোধ যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেয় দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাঙালিকে। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বেতারবার্তায় যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, সেই মুহূর্তে পাকিস্তানি হানাদারের গুলি আর বেয়নেটে ক্ষতবিক্ষত দেশ। শুরু হয় অবধারিত লড়াই, বাঙলার মাটি সিক্ত হয় ৩০ লাখ শহীদের রক্তে, সম্ভ্রম হারানো অসংখ্য নারীর আর্তনাদে। অবশেষে নয় মাসের তুমুল জন্ম যন্ত্রণার পর একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর প্রতাপশালী পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে আসে সেই আরাধ্য স্বাধীনতা। বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি