১৯ অক্টোবর ২০২৬

বোমা হামলার হুমকিতে ইসরায়েল থেকে আসা বিমানের বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
বোমা হামলার হুমকিতে ইসরায়েল থেকে আসা বিমানের বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাগামী যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় জরুরি অবতরণ করা হয়েছে। উড়োজাহাজটিতে ছয়জন ক্রু সদস্য ও ৫১ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের সবাইকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়। খবর আল জাজিরার।

রোববার (১৮ অক্টোবর) অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের ওএস৮২ ফ্লাইটটি রোমানিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছালে উড়োজাহাজের ক্রুরা বোমা হামলার হুমকি পান। এরপর তারা উড়োজাহাজটি সোফিয়ায় অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। বুলগেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান উড়োজাহাজটিকে পাহারা দিয়ে সোফিয়া বিমানবন্দরে নিয়ে যায়।

বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যাত্রীদের নামিয়ে নেওয়ার পর উড়োজাহাজটিতে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়। অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তল্লাশি শেষ হলে যাত্রীদের যত দ্রুত সম্ভব বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

ঘটনাটি তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।

বিমান চলাচল ও উড়োজাহাজের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটটি রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে সোফিয়ার ভাসিল লেভস্কি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী আরেকটি সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। পরে গতিপথ পরিবর্তন করে দক্ষিণ দিকে ঘুরে বুলগেরিয়ার দিকে ফিরে আসে। একই সময়ে উড়োজাহাজটি সাধারণ জরুরি পরিস্থিতির জন্য নির্ধারিত সংকেত ৭৭০০ প্রচার করছিল বলে জানিয়েছে এডিএস-বি এক্সচেঞ্জ।

এর আগে গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে মূল পাইলটকে কুঠার দিয়ে আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। উড়োজাহাজটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার পর উড়োজাহাজটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। পরে অন্য পাইলটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্ত সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামি ইসরায়েলের তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে ‘আত্মঘাতী’ মিশনে ছিলেন। ওমানের নাগরিক ওই সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওই ঘটনার পর ইসরায়েল সরকার দেশটিতে অবতরণকারী সব উড়োজাহাজের পাইলটদের পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়। এর মধ্যেই বোমা হামলার হুমকিতে ইসরায়েল থেকে আসা আরেকটি উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণের ঘটনা ঘটল। তবে বুলগেরিয়ায় অবতরণ করা উড়োজাহাজে পাওয়া হুমকির সঙ্গে আগের ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি