২৩ মে ২০২৬

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পরিত্যক্ত ডেটোনেটর বিষ্ফোরণে ডান হাতের কব্জি উড়ে গেলো শিশুর

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পরিত্যক্ত ডেটোনেটর বিষ্ফোরণে ডান হাতের কব্জি উড়ে গেলো শিশুর
অমর গুপ্ত, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পার্শ্বে পরিত্যক্ত ডেটোনেটর (এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিষ্ফোরণে ইলিয়াস (১০) নামের এক শিশুর ডান হাতের কব্জি উড়ে গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, আজ মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২ টার দিকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি সংলগ্ন চৌহাটি গ্রামে। আহত শিশু ইলিয়াস (১০) চৌহাটি গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে এবং একটি মাদ্রাসার নাজরা (দ্বিতীয়) শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্থানীয়রা জানান, আজ মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার ডাম্পিং এলাকা থেকে শিশু ইলিয়াস একটি ধাতব বস্তু পেয়ে কৌতূহল বশত সেটি নাড়াচাড়া করতে করতে নিজের বাড়ীতে নিয়ে যায়। এরপর মোবাইল ফোনের অচল ব্যাটারির সাথে সংযোগ দিলে সেটি হঠাৎ বিকট শব্দে বিষ্ফোরিত হয়। এতে ইলিয়াসের হান হাতের কব্জি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আঙুল খুলে পড়ে যায়। এ সময় শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষত বিক্ষত হয়। আহত ইলিয়াসকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে এবং তার অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। আহত ইলিয়াসের পিতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, কয়লাখনির পাশ থেকে ওইসব ধাতব পদার্থ কুড়িয়ে এনে বাড়ীতে খেলার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিষ্ফোরণে তার ছেলে ডান হাতের কব্জি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে কাতরাতে দেখে দ্রæত স্থানীয় এবং পড়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে ঘটনাস্থল গিয়ে দেখা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পূর্ব পার্র্শ্বের প্রাচীর ঘেঁষে তার কাঁটা দিয়ে ঘেড়া খনির ডাম্পিং এলাকা রয়েছে। সেখানেই খনির সব ধরনের উচ্ছিষ্টসহ বর্জ্য ফেলা হয়। এই সব বর্জ্য থেকে কয়লার সন্ধ্যানে এলাকার লোকজন ওই ডাম্পিং এলাকায় গিয়ে কয়লা সংগ্রহ ও বিক্রি করে থাকেন। এসব বর্জ্যরে সাথে মাঝে মধ্যেই ডেটোনেটর (এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) পাওয়া যায়। অনেক সময় এলাকার শিশুরা এসব ডেটোনেটর বাড়ীতে এনে খেলাধূলা করে থাকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির একজন খনিশ্রমিক বলেন, এগুলো ডেটোনেটর। খনির ভূগর্ভে যেসব স্থানের কয়লা মেশিন দিয়ে কাটা সম্ভব হয় না, সেইসব স্থানে ডেটোনেটর লাগিয়ে অন্তত ৫০ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে সেটিকে বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে জমাট কয়লা ভেঙ্গে ফেলা হয়। এদিকে এ দুর্ঘটনার পর খনিএলাকা জুড়ে স্থানীয়রা আতঙ্ক গ্রস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, খনি কর্তৃপক্ষের অসতর্কতার জন্যই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। যার জন্য শিশু ইলিয়সের হাতের কব্জি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এসব ডেটোনেটর কিভাবে সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে সেদিকে খনি কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের দুর্ঘটনা আর না ঘটে। বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) মহা-ব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) খান মো. জাফর সাদিক বলেন, খনির ভূগর্ভে কয়লা উত্তোলন কাজে বিষ্ফোরণের জন্য ডেটোনেটর ব্যবহার করা হয়। এগুলো খুবই স্পর্শকাতর। এগুলো কোনটি অকেজো বা কোনটি তাজা তা বুঝা মুশকিল। তবে খনির বাইরে প্রাপ্ত ডেটোনেটরে কোন সংযোগ নেই। তবে এগুলো খনির ডাম্পিং এলাকা থেকেই কোন না কোন ভাবে ধাতব বস্তু হিসেবে এলাকাবাসী সংগ্রহ করেছে। এ বিষয়ে আগে কেউ কর্তৃপক্ষের নজরে আনেননি। ঘটনার পর জানতে পেরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে ডেটোনেটর বিষ্ফোরণ ঘটনায় ইতোমধ্যে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আগামীতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আহত শিশু ইলিয়াসের বিষয়ে তিনি বলেন, আগে তার চিকিৎসা হোক, পরে তার বিষয়ে খনিকর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে এবং তার পাশে থাকবে। [বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

FIRDAUS FASHIONS


FIRDAUS FASHIONS

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি