২৯ আগস্ট ২০২৬

ধান ছেড়ে সবজিতে ভাগ্য ফেরাচ্ছেন রুহিয়ার কৃষক

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
ধান ছেড়ে সবজিতে ভাগ্য ফেরাচ্ছেন রুহিয়ার কৃষক

  
দুলাল হক, রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ধানসহ অন্যান্য সনাতনী ফসলের অনিয়মিত বাজারমূল্যের অনিশ্চয়তা কাটাতে এখন বিকল্প হিসেবে লাভজনক সবজি চাষকেই বেছে নিচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার কৃষকেরা। স্বল্প সময়, সামান্য পুঁজি, বাজারে ভালো চাহিদা এবং স্থানীয় কৃষি বিভাগের কার্যকর কারিগরি সহায়তা  এই তিনের সমন্বয়েই বদলে যাচ্ছে রুহিয়ার কৃষিচিত্র।

সরেজমিনে রুহিয়ার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। পটল, করলা, বেগুন, শিম, টমেটো, ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ হরেক রকম সবজিতে ভরে গেছে মাঠ। যেসব জমিতে একসময় বছরে কেবল একটি ফসল হতো, সেখানে এখন বছরজুড়েই চলছে সবজির সমন্বিত আবাদ।

কৃষকদের মতে, ধান বা দানাদার ফসলের তুলনায় সবজি দ্রুত বিক্রি করে নগদ অর্থ হাতে পাওয়া যায়। এ কারণেই দিনদিন সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

রুহিয়া ইউনিয়নের কৃষক আহসাদুল হক বলেন, আগে ধান চাষ করে খরচের টাকাই উঠতে চাইত না। তবে গত দুই বছর ধরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজি চাষ শুরু করার পর থেকে ভালো লাভের মুখ দেখছি। বিশেষ করে আগাম জাতের সবজি তুলতে পারলে প্রায় দ্বিগুণ দাম পাওয়া যায়। চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে আগাম জাতের সবজি চাষে ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছি।

একই উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের খড়িবাড়ি টাওয়ার মার্কেট এলাকার কৃষক আহসান হাবিব বলেন, এবার ১০ শতক জমিতে করলা চাষে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে খরচের কয়েক গুণ লাভ থাকবে বলে আশা করছি।

উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ভোর হতেই স্থানীয় পাইকারি বাজারগুলো জমে ওঠে। পাইকারেরা সরাসরি মাঠ থেকেই টাটকা সবজি কিনে ট্রাকে করে বড় শহরগুলোতে পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমায় চাষিরা সরাসরি লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসিরুল আলম জানান, ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লি অঞ্চলের প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০০ হেক্টর জমিতে এবার সবজির আবাদ হয়েছে। কম সময়ে বেশি লাভ পাওয়ায় কৃষকেরা এই চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। কৃষি দপ্তর থেকেও তাদের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে স্থানীয় চাষিদের দাবি, রুহিয়া এলাকায় একটি স্থায়ী হিমাগার স্থাপন করা গেলে সবজি পচনের ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি সহজ শর্তে কৃষি ঋণের সুযোগ নিশ্চিত করা হলে এই অঞ্চলে সবজি চাষে নতুন বিপ্লব ঘটবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।


বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি