ডিপফেইক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মুখ খুললেন জাহ্নবী
বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ‘দেভারা: পার্ট ওয়ান’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘ছুট্টামালে’-র একটি ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিকৃত করার ঘটনায় অবশেষে মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার ও নারীদের বস্তুবস্তু হিসেবে দেখার প্রবণতার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, বিনা অনুমতিতে এ ধরনের কাল্পনিক কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া গভীরভাবে আঘাত করে এবং তা একপ্রকার যৌন নিপীড়নের শামিল।
সম্প্রতি এক দীর্ঘ বিবৃতিতে জাহ্নবী বলেছেন, ‘নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে এবং অনুমতি ছাড়া কাল্পনিক কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে প্রযুক্তির অপরাধমূলক অপব্যবহার করা হচ্ছে। এটি গভীরভাবে আত্মমর্যাদায় আঘাত করে, যা যৌন নিপীড়নের কাছাকাছি। আমার ইন্ডাস্ট্রির প্রায় প্রতিটি নারীই এ ধরনের কোনো না কোনো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এবং বিশ্বজুড়ে নারীরা ক্রমবর্ধমানভাবে এর শিকার হচ্ছেন।’সম্মতি বা কনসেন্ট বিষয়টি নিয়ে কোনো জটিলতা থাকা উচিত নয়—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সম্মতি, পছন্দ এবং একজন নারীর শরীরের প্রতি সম্মান—এগুলো মানবতার সবচেয়ে মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে থাকা উচিত। অথচ কোনো এক অদ্ভুত কারণে এগুলোকে এখনো জটিল বলে মনে করা হয়। আসলে এগুলো মোটেও জটিল কিছু নয়।’

পোশাক বা অতীতের অনুমতির কথা ভুলে একজন নারীর ব্যক্তিগত সীমানাকে সম্মান জানানোর ওপর জোর দিয়ে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এটা সত্যিই অবাক করার মতো বিষয় যে, কিছু মানুষের কাছে এটি বুঝতে পারা এখনো খুব সূক্ষ্ম একটি ব্যাপার বলে মনে হয় যে—একজন নারী যদি পরপর পাঁচ দিন সম্মতি দেন এবং ষষ্ঠ দিন ‘না’ বলেন, তবে সেই ‘না’-কে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে। তিনি যদি একটি মিনিস্কার্ট পরে থাকেন, তবে এর অর্থ এই নয় যে কেউ তার স্কার্টের নিচে ক্যামেরা ধরার, আপত্তিকর কোণ থেকে ছবি তোলার বা তার শরীরকে দৃশ্যগতভাবে হেনস্তা করার অনুমতি পেয়ে গেছে।
জাহ্নবীর মতে, এই সমস্যাটি কেবল তাকে নিয়ে তৈরি এআই ভিডিওগুলোর চেয়েও অনেক বড় এবং এটি বৃহত্তর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করানো নারীদের উদ্বেগের কথা বলে।
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনে আমি যে এআই ভিডিওগুলোর মুখোমুখি হয়েছি বা আমার পুরো ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগতভাবে যা অনুভব করেছি, এটি তার চেয়েও অনেক বড় বিষয়। এটি একজন নারী হিসেবে বেঁচে থাকার বৃহত্তর বাস্তবতা, সমাজের আড়চোখে তাকানো, বিচারবুদ্ধি জাহির করা, নিরাপত্তার জন্য অবিরাম দরকষাকষি করা এবং এই অনুভূতির সঙ্গে জড়িত যে আমাদের সীমানাগুলো এখনো ব্যাখ্যার জন্য উন্মুক্ত রয়ে গেছে। এই হুমকি এখন ডিজিটাল জগতেও ছড়িয়ে পড়েছে, অথচ নারীদের দৈনন্দিন জীবনকে ওলোটপালট করে দেওয়া বাস্তব ও শারীরিক ভয়ের বিষয়টিরই আমরা এখনো সুরাহা করতে পারিনি।’
নারীদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সীমানা নিয়ে মানুষের ভাবনার ধরনে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে জাহ্নবী বলেন, এর উত্তর কেবল ‘তোমার মেয়েকে রক্ষা করো’ হতে পারে না। আমাদের সেই মানসিকতারও পরিবর্তন ঘটাতে হবে, যা মানুষকে বিশ্বাস করায় যে অন্যের সীমানা লঙ্ঘন করার অধিকার তাদের আছে। এই পরিবর্তনের একটা বড় অংশ আসবে আদর্শবান পুরুষদের মাধ্যমে। যাদের নৈতিক কম্পাস এবং মেরুদণ্ড রয়েছে—সঠিক ও ভুলের পার্থক্য স্পষ্ট ভাষায় বলার সাহস যাদের আছে।
ভিডিওটির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য ‘দেভারা’ সিনেমায় তার সহশিল্পী জুনিয়র এনটিআরকে ধন্যবাদ জানান জাহ্নবী।
যা ঘটেছিল
জাহ্নবী কাপুর ও জুনিয়র এনটিআর অভিনীত ‘ছুট্টামালে’ গানের ফুটেজ ব্যবহার করে এআই দিয়ে তৈরি একটি ডিপফেইক ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ভিডিওটি ডিজিটালভাবে কারসাজি করে জাহ্নবীকে যৌনতাপূর্ণ ও অবমাননাকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি