৩ এপ্রিল ২০২৬

ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনেও নগরবাসীরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ভিড় করছেন ঢাকার বিভিন্ন বিনোদন-কেন্দ্রে। এসব জায়গায় দেখা গেছে মানুষের ঢল। বিশেষ করে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা ঘুরতে এসেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রায় ২ লাখ মানুষ। এছাড়া  জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, জিয়া উদ্যানেও ছিল উল্লেখযোগ্য দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। পরিবার-পরিজন নিয়ে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

রবিবার (২২ মার্চ) মিরপুরে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান এবং জিয়া উদ্যান সরেজমিনে ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়।


সরেজমিনে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান এলাকায় রয়েছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। এই দুই বিনোদনকেন্দ্রের সামনের প্রায় অর্ধ কিলোমিটার জুড়ে ছিল মানুষের ভিড়। যান চলাচলও এই রাস্তায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। জিয়া উদ্যানেও ছিল মানুষের সরব উপস্থিতি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। রাজধানীর অন্যতম এসব বিনোদনকেন্দ্রে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তারা মূলত পরিবারের সঙ্গে নিজেদের মতো করে সময় কাটানোর জন্যই এখানে এসেছেন।  

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ২০ বছর পর বেড়াতে এসেছেন ফখরুল আলম। ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন তিনি। উদ্যানের পরিবর্তন দেখে সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি ২০ বছর আগে শেষবারের মতো বোটানিক্যাল গার্ডেনে এসেছিলাম। তখনকার পরিবেশ ভালো ছিলো না। পরিবার নিয়ে আসা যেতো না। নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তায় থাকতে হতো। এখন এসে দেখলাম পরিবেশ আগের থেকে অনেক ভালো হয়েছে। নিরাপত্তাও ভালোই হয়েছে বোঝা যাচ্ছে। টয়লেটের ব্যাবস্থা ভালো করেছে। আগেতো ব্যবহারোপযোগী ছিলোনা। সে তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে।”


প্রবাসী কামরুল হাসান ঈদ করতে এসেছেন নিজের দেশে। ঈদের এই ছুটিতে মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে এসেছেন জিয়া উদ্যানে। তিনি বলেন, “সব সময়তো আর বাচ্চাদের সঙ্গে ঈদ করা হয় না, এবার এসেছি। তাই একটু মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে বের হলাম। এই পার্কে (জিয়া উদ্যান) ভালো লাগে, আবার বাসারও কাছে।  তাই কিছুটা সময় কাটাচ্ছি।”  

গতকাল রাতে নোয়াখালী থেকে ঢাকার বাড্ডায় বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছেন মো. রিয়াজ। আজ বড় বোন ভাগ্নে-ভাগ্নীসহ সবার সঙ্গে বেড়াতে এসেছেন জিয়া উদ্যানে। তিনি বলেন, “আমি আগেও একবার এখানে এসেছিলাম। আজ আবার এলাম। আসলে ঈদের দিনতো খালি আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়াতে বেড়াতেই সময় চলে যায়। তাই ঈদের পরে একটু এখানে বেড়াতে এসেছি, কারও বাসায় যাচ্ছি না আজকে।”  

পরিবার নিয়ে মালিবাগ থেকে জিয়া উদ্যানে বেড়াতে এসেছেন আবুল কালাম। তিনি বলেন, “এবার ঈদে লম্বা ছুটি পাওয়া গিয়েছে। পরিবারের সঙ্গে একটু বেশি সময় কাটাতে পারবো। রোজার ঈদে আসলে যেটা হয় যে, ঈদের দিন হয় কেউ আসে বাসায় নাহলে আমরা যাই। তাই ঈদের পর দিন এসেছি সবাইকে নিয়ে পার্কে বেড়াতে। পরে যদি মনে হয়, তখন সন্ধ্যার পরে কারও বাসায় গিয়ে বেড়িয়ে আসবো। এখন আমাদের নিজেদের সময়।”  

চিড়িয়াখানা এলাকায় ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। এর সামনের আধা কিলোমিটার রাস্তায় ছিল মানুষের ঢল। চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার এই বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “গতকাল প্রত্যাশার তুলনায় কম দর্শনার্থী এলেও আজ চিড়িয়াখানার ইতিহাসের সর্বোচ্চ দর্শনার্থী এসেছে।” তিনি বলেন, “আমাদের ধারনা ছিল দর্শনার্থীর সংখ্যা এক লাখ বা তার কাছাকাছি হবে। কিন্তু আজ ইতিহাসের সর্বোচ্চ দর্শনার্থী এসেছে। আজ এসেছে ১ লাখ ৯০ হাজারের দর্শনার্থী। যা প্রায় দুই লাখ। গতবছর সর্বোচ্চ এসেছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার।” এত দর্শনার্থী এলেও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে তাদের সামাল দিতে কোনও সমস্যা হয়নি বলেও জানান তিনি।  

রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, “দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমরা একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রথমত, ডিএমপি পুলিশ, র‍্যাব ও টুরিস্ট পুলিশ দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কাজ করছে। পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী, আনসার বাহিনী এবং অন্যান্য কর্মচারীরাও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।”

এছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। ফলে দর্শনার্থীরা মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে আসা-যাওয়া করতে পারছেন এবং চিড়িয়াখানার ভেতরেও স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়িয়ে উপভোগ করতে পারছেন। এখন পর্যন্ত কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান তিনি।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি