২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুতেরেসের বিদায়ী ভাষণে গাজা, এআই ও নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসনের তাগিদ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
গুতেরেসের বিদায়ী ভাষণে গাজা, এআই ও নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসনের তাগিদ


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিদায়ী ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত, গাজায় মানবিক বিপর্যয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সংকটকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। এসব সংকটের পেছনে ক্ষমতার পরিবর্তন এবং ক্ষমতার অসম বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


গাজা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন গুতেরেস। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় যে মাত্রায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, তা তার মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেখা অন্য অনেক সংকটের তুলনায় নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গুতেরেস বলেন, গাজায় জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সংস্থাটির কর্মী ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের তিনটি দিক তুলে ধরেন জাতিসংঘের মহাসচিব। তার মতে, বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তিকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির হাতেও ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন ঘটছে।

আরেকটি বড় পরিবর্তন হিসেবে মানুষের কাছ থেকে প্রযুক্তি ও যন্ত্রের দিকে ক্ষমতা সরে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থার বিস্তারও রয়েছে।


গুতেরেসের ভাষ্য, বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ও কাঠামোগুলো এই পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ বিশ্বব্যবস্থায় নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গুতেরেস বলেন, সামরিক শক্তির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একইভাবে প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক ক্ষমতাও একা শান্তি প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।


তার মতে, এমন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে ক্ষমতার প্রয়োগ আইনের অধীন থাকবে এবং মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শক্তিকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান শতাব্দীতে শান্তির অর্থ শুধু যুদ্ধ না থাকা নয়; বরং সংযম, আইন ও দায়িত্বশীলতার উপস্থিতিও শান্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার জন্য স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন গুতেরেস। তিনি বলেন, একুশ শতকের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার কোনো স্থায়ী আসন না থাকা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন।

বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য হলো চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের বৈশ্বিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে এই কাঠামো গড়ে ওঠায় আফ্রিকার যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।

নিরাপত্তা পরিষদের ১০টি অস্থায়ী সদস্যপদ বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে বণ্টন করা হয়। তবে এসব সদস্য স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মতো ভেটো ক্ষমতা ভোগ করেন না। আফ্রিকান ইউনিয়ন নিরাপত্তা পরিষদে মহাদেশটির জন্য দুটি স্থায়ী আসন এবং আরও দুটি অস্থায়ী আসনের দাবি জানিয়ে আসছে।

ভাষণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন গুতেরেস। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই। সামনের সারি থেকে অনেক দূরেও বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। বিদায়ী ভাষণে গুতেরেসের বক্তব্যে তাই একই সঙ্গে যুদ্ধ, মানবিক সংকট, বৈশ্বিক ক্ষমতার পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জাতিসংঘের বর্তমান কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পেয়েছে।

সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা, সিএনএন

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি