রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা
হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সের নথি পাঠানো হবে মঙ্গলবার
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এখনও সই করেননি বিচারক। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিচারকের সই শেষে মামলার ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হবে। সোমবার (৮ জুন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত। সবশেষ সোমবার আসামি সোহেল ও স্বপ্নাকে কনডেম সেলে নেয়া হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া স্বীকারোক্তি দেয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল রানা স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছেন। আর স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না।
গত ১ জুন আলোচিত এ মামলায় সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। পরদিন ২ জুন এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর ওইদিনই মামলার ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এ ছাড়া ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। সবমিলিয়ে মাত্র ৪ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।
সবশেষ রোববার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেই সঙ্গে রায় ঘিরে এদিন আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হয়। ওই সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। অন্যদিকে ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। পরে অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মাসহ অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সেখানে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ পাওয়া যায়। এ ছাড়া একটি বড় বালতির মধ্যে তার কাটা মাথাটি দেখতে পান তারা।
পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে ঘটনার পর সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালাতে সক্ষম হলেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গত ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন রামিসার বাবা।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
বিদ্যুৎ সাশ্রয় শিখতে ফ্রান্সে যেতে চান রাসিক প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর ‘না’
শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পেপারবুক হাইকোর্টে, শিগগির শুনানি
সঙ্গীত একাডেমি