১৩ আগস্ট ২০২৬

হোয়াইট হাউসের সামনে প্রবাসী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ সমাবেশ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
হোয়াইট হাউসের সামনে প্রবাসী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ সমাবেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে হিন্দুদের বাড়ি, মন্দির ও মণ্ডপে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রস্থ প্রবাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত 'ইউনাটেড হিন্দুস অব আমেরিকা' আয়োজিত উক্ত সমাবেশে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানসহ আদিবাসী সম্প্রদায়ের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত হয়ে দেশে জরুরি ভিত্তিতে হিন্দুসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন ও পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা হোয়াইট হাউস, ষ্টেট ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ও ভারতীয় দূতাবাসে পৃথক পৃথক স্বারকলিপি প্রদান করেন। কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার পর ওই ঘটনার জের ধরে ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনি, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলার প্রতিবাদে 'ইউনাটেড হিন্দুস অব আমেরিকা' হোয়াইট হাউসের সামনে এ সমাবেশের আহবান জানালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, ম্যারিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসির প্রবাসী হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানসহ আদিবাসী সম্প্রদায়ের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ বিভিন্ন শ্লোগানে মুখরিত করে তোলেন হোয়াইট হাউস এলাকা। সভায় বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগরদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। যদি হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বক্তারা উল্লেখ করেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে, সংখ্যালঘুদের রক্ষায় জাতিসংঘ থেকেও বিবৃতি এসেছে। এমন বাংলাদেশ আমরা কখনই চাই নাই। বক্তারা আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার বীজ বপন করেছিলেন। যেটা এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান-এসব পরিচয়ের থেকেও আমাদের বড় পরিচয় হচ্ছে আমরা মানুষ। আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বী যারা আছি, তারা ১৯৪৭-এর দেশভাগের সময় দেশ ত্যাগ করিনি, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও দেশ ছেড়ে যাইনি। তার অর্থ এই যে আমরা এই দেশেই থাকতে চাই। তাহলে কেন আমাদের সঙ্গে এমনটা হচ্ছে। কেনই বা আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের অতি সাম্প্রতি একটি মিথ্যাচার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা। সভায় বক্তব্য দেন নিত্যানন্দ কিশোর দাস, নবেন্দু বিকাশ দত্ত, সুবীর বড়ুয়া, শিতাংশু গুহ, ডা. প্রভাষ দাস, বিদ্যুৎ সরকার, শ্যামল কর, ভজন সরকার, দীনেশ মজুমদার, শুভ রায়, গোপাল সাহা, রনজিৎ সাহা, রুপকুমার ভৌমিক, ভবতোষ মিত্র, গোবিন্দ জি বানিয়া, প্রিয়লাল কর্মকার, রামদাস ঘরামী, প্রদীপ মালাকার, আশিষ ভৌমিক, বিষ্ণু গোপ ও প্রবীর রায় প্রমুখ। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি