৭ আগস্ট ২০২৬

ইচ্ছাকৃতভাবেই ফুড স্ট্যাম্প জালিয়াতি বাড়াচ্ছে কিছু অঙ্গরাজ্য

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
ইচ্ছাকৃতভাবেই ফুড স্ট্যাম্প জালিয়াতি বাড়াচ্ছে কিছু অঙ্গরাজ্য

আমেরিকার ভেতরে বাইরে

ছাবেদ সাথী

অন্তত নিউ মেক্সিকো এ ব্যাপারে খোলামেলাভাবে স্বীকার করেছে। গত বছর অঙ্গরাজ্যটির ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রকাশ্যে জানান, নিম্ন-আয়ের মানুষের পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচিতে (স্ন্যাপ) দীর্ঘদিনের অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার রোধে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

নিউ মেক্সিকো হেলথ কেয়ার অথরিটির ইনকাম সাপোর্ট ডিভিশনের পরিচালক নিকি কোজলোভস্কি এমন একটি বড় ফাঁকফোকরের কথা সামনে এনেছেন, যা অনেক অঙ্গরাজ্য নীরবে ব্যবহার করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কল্যাণমূলক সংস্কার এড়িয়ে যেতে।

নতুন আইনে বদল আসছে

ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচিতে দীর্ঘদিনের একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। এতদিন অঙ্গরাজ্যগুলো নিজ নিজ স্ন্যাপ কর্মসূচি পরিচালনা করলেও বছরে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের এই কর্মসূচির সব ব্যয় বহন করত ফেডারেল সরকার। ফলে ভুল ব্যয়, জালিয়াতি বা অপচয়ের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর কার্যত কোনো আর্থিক দায় ছিল না।

কিন্তু ২০২৭-২৮ অর্থবছর (অক্টোবর ২০২৭) থেকে পরিস্থিতি বদলাবে। যেসব অঙ্গরাজ্যে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা বিতরণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভুল বা অপচয় হবে, তাদের সেই সুবিধা ব্যয়ের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত নিজেদের বহন করতে হবে। এই হার নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের ত্রুটির হারের ওপর ভিত্তি করে।

এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো অঙ্গরাজ্যগুলোকে অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার কমাতে বাধ্য করা। অন্যথায় তাদের কোটি কোটি, এমনকি বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হতে পারে।

তবে রয়েছে একটি বড় ফাঁক

আইনে একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কোনো অঙ্গরাজ্যের ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচিতে ভুল ব্যয়, জালিয়াতি, অপচয় ও প্রশাসনিক ত্রুটির হার ১৩.৩৪ শতাংশের বেশি হলে তারা সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক জরিমানার আওতায় পড়বে না। বরং ত্রুটির হার কমানোর জন্য অতিরিক্ত সময় পাবে।

এই ব্যতিক্রমটি আদায় করেছিলেন আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাওস্কি, কারণ ২০২৩ সালে আলাস্কার ত্রুটির হার ছিল বিস্ময়কর ৬০.৪ শতাংশ।

কিন্তু সমালোচকদের মতে, এই ছাড় অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য উল্টো একটি প্রণোদনা তৈরি করেছে। যুক্তিটা সহজ—ত্রুটির হার যত বেশি থাকবে, জরিমানা এড়ানোর সুযোগও তত দীর্ঘ হবে।

নিউ মেক্সিকোর অবস্থান

২০২৪ অর্থবছরে নিউ মেক্সিকোর ত্রুটির হার ছিল ১৪.৬ শতাংশ, যা নির্ধারিত সীমার ওপরে। পরিচালক নিকি কোজলোভস্কি এটিকে একটি "ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা" বলে বর্ণনা করেন। অর্থাৎ একদিকে অপচয় কমানোর চেষ্টা, অন্যদিকে এমন পর্যায়ে না নামানো যাতে অঙ্গরাজ্যকে আর্থিক দায় নিতে হয়।

ফলাফলও তাই হয়েছে। ২০২৫ অর্থবছরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোর ত্রুটির হার আরও বেড়ে ১৬.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, অঙ্গরাজ্যটি ইচ্ছাকৃতভাবেই ভুল পথে এগোচ্ছে।

শুধু নিউ মেক্সিকো নয়

সমস্যাটি কেবল নিউ মেক্সিকোতে সীমাবদ্ধ নয়। আলাস্কা, জর্জিয়া, ওরেগন এবং ওয়াশিংটন ডিসি-র ত্রুটির হারও ১৩.৩ শতাংশের ওপরে রয়েছে এবং সেগুলোতে উল্লেখযোগ্য উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

এছাড়া ডেলাওয়্যার ও ইলিনয়-এর অবস্থাও আরও খারাপ হয়েছে। ইলিনয়ের ত্রুটির হার ১২.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৬ শতাংশে, আর ডেলাওয়্যারের হার ১১.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

সমালোচকদের মতে, এই ধারাবাহিক অবনতি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রেই এটি পরিকল্পিত বলে মনে হয়।

আবার উন্নতির উদাহরণও আছে

অন্যদিকে কিছু অঙ্গরাজ্য দেখিয়েছে যে পরিবর্তন সম্ভব।

নিউ জার্সি তাদের ত্রুটির হার ১৪.৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬.৮ শতাংশে নামিয়েছে। আগামী বছর সেটি ৬ শতাংশের নিচেও নেমে আসতে পারে।

এছাড়া নিউইয়র্ক, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস ও ফ্লোরিডা-ও ২০২৫ সালে ১৩.৩ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তবে সমালোচকদের মতে, এদের অনেকেই এখনও সীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তাই চাইলে আবার ত্রুটির হার বাড়িয়ে জরিমানা কার্যকর হওয়ার আগে অতিরিক্ত সময় আদায় করতে পারে।

জরিমানা পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা

অনেক অঙ্গরাজ্য—এমনকি যারা অপচয় কমাতে আন্তরিক বলেও দাবি করে—কংগ্রেসের কাছে আর্থিক জরিমানা কার্যকর হওয়ার সময় আরও পিছিয়ে দেওয়া বা পুরো ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানাচ্ছে।

ডেমোক্র্যাটদের দাবির পর সিনেটের খসড়া ফার্ম বিল-এও জরিমানা কার্যকর হওয়ার সময় আরও এক বছর পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সমালোচকদের ধারণা, অনেক অঙ্গরাজ্য এখন অপেক্ষা করছে—ভবিষ্যতে যদি ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এসে এই জরিমানার বিধান বাতিল করে দেয়, তাহলে এখন জালিয়াতি ও অপচয় কমানোর জন্য অতিরিক্ত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনই থাকবে না।

রিপাবলিকানদের অবস্থান

নিবন্ধটির লেখকের মতে, রিপাবলিকানদের এই ফাঁকফোকর বজায় রাখতে দেওয়া উচিত নয়। বরং ডেমোক্র্যাটদের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সংস্কার কার্যকর রাখতে হবে এবং অঙ্গরাজ্যগুলোকে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে বাধ্য করতে হবে।

তার ভাষায়, বছরের পর বছর ধরে করদাতাদের অর্থ অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার সহ্য করার জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোকে পুরস্কৃত করা উচিত নয়। নিউ মেক্সিকোর প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি এবং অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের কর্মকাণ্ড দেখিয়ে দেয়—অনেকেই এখনও সেই পুরোনো সংস্কৃতি বজায় রেখেছে। তাই এখন সময় এসেছে করদাতাদের অর্থের অপব্যবহারের জন্য তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার।

 

ছাবেদ সাথী: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক ও মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সম্পাদক-বাংলা প্রেস।

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি