ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের একটি স্কুল ও ক্রীড়া স্থাপনায় মার্কিন সামরিক হামলায় যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য অনুসন্ধানকারী দল (ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন)।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপনের জন্য প্রকাশিত একটি নতুন প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘের স্বতন্ত্র ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং মিশন অন ইরান নামের এই প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপন করা হবে। তদন্তকারীরা বলেছে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জড়িত থাকার যুক্তিসংগত ভিত্তি পাওয়া গেছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের হিসাবে, হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ স্কুলশিক্ষার্থী ছিল। জাতিসংঘের তদন্তে স্কুলটিকে স্পষ্টভাবে বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইরানের প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রই প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল বলে খোদ দেশটির সামরিক বাহিনীর চলমান তদন্তে উঠে এসেছে। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
এ ঘটনার জন্য উল্টো ইরানকেই দায়ী করেছিলেন তিনি। মার্কিন কর্মকর্তা ও প্রাথমিক তদন্তের ফলাফলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানে মেয়েদের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী।
তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের দক্ষিণে মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে হামলাটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি নিশানাগত (টার্গেটিং) ভুল। বিদ্যালয় ভবনের পাশেই অবস্থিত একটি ইরানি ঘাঁটিতে হামলার সময় এ ঘটনা ঘটে।
শিশুদের দিয়ে পরিপূর্ণ একটি স্কুলে হামলার এ ঘটনা নিশ্চিতভাবে সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সামরিক ভুল হিসেবে নথিবদ্ধ হতে যাচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এ হামলায় নিহত মানুষের সংখ্যা অন্তত ১৭৫, যাদের প্রায় সবাই শিশু।
এ ছাড়া ইরানের লামার্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে হামলার ঘটনাও তদন্ত করেছে জাতিসংঘের মিশন। এতে আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন। তদন্তকারীরা হামলাটিকেও নির্বিচার হামলা হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করে।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
জাতিসংঘ অধিবেশনে যেতে মাহমুদ আব্বাসকে ফের ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র
সঙ্গীত একাডেমি