২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ব্রাজিলই কেন সবার আগে বক্তব্য দেয়?

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ব্রাজিলই কেন সবার আগে বক্তব্য দেয়?

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথম ভাষণ দেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা/সংগৃহীত

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলছে নিউইয়র্কে। বার্ষিক এই সাধারণ আলোচনায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রথম ভাষণ দেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তার পরই ভাষণ দেন স্বাগতিক দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই ক্রম কোনো প্রথাগত নিয়ম বা বর্ণানুক্রমিক তালিকার আকস্মিক ফল নয়। বরং এটি এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী রীতি, যা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনার সূচনা নির্ধারণ করে আসছে।

১৯৫৫ সালে দশম অধিবেশনে এই রীতি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। কালেভদ্রে ব্যতিক্রম ছাড়া এই রীতি এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৫ সালের প্রথম দিকে অনেক দেশই প্রথম ভাষণ দিতে দ্বিধাবোধ করতো। সেই সময় এগিয়ে আসে ব্রাজিল।

২০১০ সালে এনপিআরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের সাবেক প্রটোকল প্রধান ডেসমন্ড পার্কার বলেন, ‘একেবারে প্রথম দিকে, যখন কেউ প্রথমে বক্তব্য দিতে চাইতো না, তখন ব্রাজিলই সবসময় প্রথম বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তাব দিতো। এভাবেই সাধারণ পরিষদে প্রথম বক্তব্য দেওয়ার অধিকার অর্জন করেছে তারা।’

শুরু থেকেই ব্রাজিলের কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৪৭ সালে সাধারণ পরিষদের প্রথম বিশেষ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেছিলেন কূটনীতিক ওসভালদো আরানিয়া। ফিলিস্তিন এবং ইসরায়েলের বিভাজন পরিকল্পনার দিকে নিয়ে যাওয়া বৈঠক ছিল এটি। দ্বিতীয় নিয়মিত অধিবেশনেও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

কিছু বিবরণ অনুযায়ী, ব্রাজিলের সেই প্রাথমিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই আংশিকভাবে এই বক্তব্য দেওয়ার সুবিধা জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। অন্যরা আবার এর সঙ্গে শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটকে যুক্ত করেন। তাদের মতে, জোটনিরপেক্ষ লাতিন আমেরিকান কোনো শক্তিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যাতে যুক্তরাষ্ট্র বা সোভিয়েত ইউনিয়ন কাউকেই শুরুর এই মঞ্চ দিতে না হয়।

আরেকটি ব্যাখ্যায় এই রীতিকে একধরনের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসন না পাওয়ার পরও এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল ব্রাজিলকে।

কিছু বিশেষজ্ঞের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ‘এটা ছিল একধরনের সান্ত্বনা পুরস্কার।’ এতে বৃহৎ শক্তির মর্যাদা না থাকলেও যুদ্ধোত্তর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় ব্রাজিলের গুরুত্বেরই প্রতিফলন ঘটে।

জাতিসংঘ নিজেই এই ব্যবস্থাকে সাধারণ বিতর্কে সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা এক ‘রীতি’ হিসেবে বর্ণনা করে। এটি জাতিসংঘ সনদ বা কার্যপ্রণালী বিধিতে লিপিবদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়ম নয়।

প্রতি বছর জাতিসংঘ সচিবালয় ব্রাজিলের মিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে, দেশটি এই সুযোগ ধরে রাখতে চায় কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য। এখন পর্যন্ত প্রতিবারই এর উত্তর ছিল ইতিবাচক।

ব্রাজিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাষণের পর বাকি ক্রম নির্ধারিত হয় প্রতিনিধিত্বের স্তর অনুযায়ী। প্রথমে রাষ্ট্রপ্রধানরা, এরপর সরকারপ্রধানরা, তারপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্যরা বক্তব্য দেন। এছাড়া ভৌগোলিক ভারসাম্য এবং বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধের সময়ও এই ক্রম নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

এই রীতির ব্যতিক্রম হয়েছে খুবই কম সময়। ১৯৮৩ এবং ১৯৮৪ সালে গ্রেনাডায় মার্কিন হস্তক্ষেপের পর যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম বক্তব্য দিয়েছিল। ২০১৬ এবং ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিলম্বের কারণে দ্বিতীয় স্লটে বক্তব্য দিয়েছিল যথাক্রমে চাদ এবং ইকুয়েডর।
বিপি>টিডি
 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি