কানেকটিকাটে গাড়িচাপায় শিশুকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশি তারেক আম্বিয়া গ্রেপ্তার
ম্যানচেস্টার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার তারেক আম্বিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক: কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টারে গাড়িচাপায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার দায়ে গাড়িচালক বাংলাদেশি তারেকুল আম্বিয়া ওরফ তারেক আম্বিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে ম্যানচেস্টার পুলিশ। তারেক বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব কানেকটিকাট (বাক)-এর সভাপতি এবং কানেকটিকাট স্টেট আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা। চলতি বছরের ১০ জুন কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টারে তারেক আম্বিয়ার গাড়িচাপায় চার বছর বয়সী শিশু আকারি কর্টেস-এর মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের পর পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনেছে।
ম্যানচেস্টার পুলিশ জানিয়েছে, গত ১০ জুন ভোর প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে ইস্ট সেন্টার স্ট্রিটে চার বছর বয়সী আকারি কর্টেসকে গাড়িচাপা দেন ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা ৪৯ বছর বয়সী তারেকুল আম্বিয়া।
পুলিশের তথ্যমতে, তারেকুল আম্বিয়াকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে মোটরযানের মাধ্যমে অসদাচরণজনিত মৃত্যু, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, গাড়ি চালানোর সময় হাতে মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং সঠিক লেনে গাড়ি না চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
একই ঘটনায় আকারির বাবা-মা ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী টেইলর বিরন এবং ২৬ বছর বয়সী নাথায়েল কর্টেসকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে শিশুকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ১০ জুন ভোর সাড়ে ৪টার কিছু পর ইস্ট সেন্টার স্ট্রিটে একটি গাড়ি শিশুটিকে ধাক্কা দেওয়ার খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। গুরুতর আহত আকারিকে কানেকটিকাট চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় জানিয়েছে, আকারির মৃত্যু হয়েছে ভোঁতা আঘাতজনিত জখম থেকে।

এর আগে কানেকটিকাট ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ (ডিসিএফ) জানিয়েছিল, আকারির মৃত্যুর আগে তাকে যথাযথভাবে তত্ত্বাবধান না করার অভিযোগে সংস্থাটি দুটি রিপোর্ট পেয়েছিল। ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছ থেকে ১ জুন ও ৫ জুন ওই রিপোর্ট দুটি পাওয়া যায়।
গ্রেপ্তারের পর ডিসিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আকারি কর্টেসের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বিভাগটি তাদের তদন্ত সম্পন্ন করেছে।
উল্লেখ্য, তারেক আম্বিয়া কানেকটিকাটের প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে একজন বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর বায়তুল মামুর মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় তারেক আম্বিয়া সাবেক পেশ ইমাম মাওলানা জোবায়ের আহমেদকে অকারণে লাঞ্ছিত করেন। উক্ত ঘটনাটি কানেকটিকাটসহ উত্তর আমেরিকায় ব্যাপকভাবে প্রচার হলে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ মুসলমান কমিউনিটিতে প্রচুর সাড়া পড়ে। অনেকেই এ ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করেন।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে বায়তুল মামুর মসজিদের পেশ ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা জোবায়ের আহমেদ প্রতি সপ্তাহের ন্যায় মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাশ করাচ্ছিলেন। মাদ্রাসার নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে আসার কথা থাকলেও প্রায় ১৫/২০ মিনিট বিলম্বে নিজ ছেলেকে নিয়ে আসেন মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ তারেক আম্বিয়া। তিনি দরজার কড়া নাড়তে থাকেন। ভেতর ক্লাশ চলছিল তাই কড়ার শব্দ বুঝতে পারেননি ইমাম জোবায়ের আহমেদ। দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় ইমামের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারেক। অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন ইমামকে। ইমাম তাকে ভদ্রভাবে কথার বলার অনুরোধ করলে তিনি আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, এক পর্যায়ে তারেক ইমামকে পশুর সঙ্গে তুলনা করেন। এর কারণে ইমাম জোবায়ের আহমেদ চরম লাঞ্ছিতবোধ করেন। মনে কষ্ট নিয়ে নিজ বাসায় ফিরে যান ইমাম। ওইদিন থেকে তিনি আর মসজিদে ফেরত যাননি। পরে অন্য আরেকজন ইমামকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মসজিদ কমিটির বর্তমান কোষাধ্যক্ষ তারেক আম্বিয়ার ভাই তৌফিফুল আম্বিয়া টিপু তার একটি ফেসবুক পোষ্টের মাধ্যমেও ম্যানচেস্টার প্রবাসী বাংলাদেশি মুসল্লিদেরকে 'শয়তান' বলে গালাগালিও করেন।
২০২৫ সালের ২৮ জুন বাক-এর নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভোট কেন্দ্র বসিয়ে একটি পাতানো নির্বাচনের নীল নক্সা তৈরি করে সভাপতি নির্বাচিত হন। উক্ত নির্বাচনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে তার প্রতিদ্বন্দ্বি সভাপতি প্রার্থী এনামুল আম্বিয়া আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্পাদকের নোট: কাউকে গ্রেপ্তার করা বা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার অর্থ এই নয় যে তিনি অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হন। একইভাবে, ২০১৯ সালের মসজিদের ঘটনা এবং বাক (বাক) নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগগুলো আদালতের নথি বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য বা অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করা উচিত।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে মার্কিন সিনেটের লড়াইয়ে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী কারিশমা মানজুর
সঙ্গীত একাডেমি