৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লিটনের চোখে মেসি সবার ওপরে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
লিটনের চোখে মেসি সবার ওপরে

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির অধ্যায় এখন অতীত। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর তাকে ঘিরে আবেগে ভাসছেন ভক্ত-সমর্থকেরা। দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি যে কীর্তি গড়েছেন, তা সহজে ভোলার নয়। বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মেসিভক্তের মতো বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার লিটন দাসও আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।

মেসির অবসরের ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে চলছে নানা আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), মেসির পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় দলের সতীর্থ এনজো ফের্নান্দেস ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসও তাকে নিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে গতকাল রাতে মেসির উদযাপনের একটি ছবি নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন লিটন।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটার সেখানে মেসিকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘প্রিয় লিও। তুমি শুধু সর্বকালের সেরা ফুটবলারই নও। বরং পুরো বিশ্ব যে শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদদের দেখেছে, তাদেরও একজন।’

সর্বকালের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি মেসি বহু আগেই অর্জন করেছেন। ক্যারিয়ারে একের পর এক রেকর্ড গড়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। গোল করার পর তার উদযাপনের দৃশ্যগুলোও বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে চিরস্থায়ী হয়ে আছে।

মেসির কারণেই আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হয়েছেন লিটনও। নিজের পোস্টে সেই কথাই জানিয়েছেন তিনি। লিটন লিখেছেন, ‘তোমার কারণেই আমার মতো অসংখ্য ভক্ত আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি পাগলের মতো ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়েছি। এতগুলো বছর ধরে তোমার অসাধারণ নৈপুণ্য উপভোগ করা ছিল এক অপার আনন্দের বিষয়। সত্যি বলতে, তোমাকে ছাড়া আর্জেন্টিনার একাদশ কল্পনা করাটাই কঠিন—কিন্তু এখন সেই বাস্তবতাই সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।’

ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য শিরোপা জিতলেও দীর্ঘদিন আর্জেন্টিনার হয়ে কোনো বড় ট্রফি জিততে পারছিলেন না মেসি। ২০১৪ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জিতলেও ফাইনালে জার্মানির কাছে অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। এরপর ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালেও চিলির কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ হয় দলটি।

তবে ২০২১ সাল থেকে বদলে যেতে থাকে মেসি ও আর্জেন্টিনার গল্প। দীর্ঘ ২৮ বছরের আন্তর্জাতিক শিরোপার খরা কাটিয়ে কোপা আমেরিকা জেতে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফির স্বাদ পান মেসি।

এরপর আসে ২০২২ বিশ্বকাপ। কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ফ্রান্সকে নাটকীয় ফাইনালে হারিয়ে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা বিশ্বকাপ জেতেন মেসি। সেই অর্জনই তার সর্বকালের সেরার দাবিকে আরও শক্তিশালী করে।

লিটনের কাছে মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়ও সেই বিশ্বকাপ। তিনি লিখেছেন, ‘একজন ভক্ত হিসেবে আমার কাছে ২০২২ ছিল চূড়ান্ত শিখর। সেই ফাইনাল এবং বিশ্বকাপ জয়ের পর মনে হয়েছিল, আমাদের অনেকের কাছেই যেন ফুটবল নিজেই পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। তুমি সেটা সম্ভব করেছিলে। আমাদের অসংখ্য হাসি, কান্না আর অমলিন স্মৃতির পেছনে তুমি ছিলে অন্যতম প্রধান কারণ।’

মেসির প্রতি নিজের ভালোবাসা বোঝাতে পোস্টজুড়ে একাধিক লাভ ইমোজিও ব্যবহার করেছেন লিটন। ৩১ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার আরও লিখেছেন, ‘সবকিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ লিও। চিরকাল তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ। চিরকাল তোমার ভক্ত হয়ে থাকব। তোমাকে সবসময় ভালোবাসব লিও।’

এর আগে ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর হতাশায় জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তখন তার বয়স ছিল ২৯ বছর। পরে অবসর ভেঙে ফিরে আবারও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেন। এবার মেসির বয়স ৩৯ বছর হওয়ায় ২০১৬ সালের মতো ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

জাতীয় দলের হয়ে দুই দশকের ক্যারিয়ারে মেসি খেলেছেন ২০৭ ম্যাচ। গোল করেছেন ১২৫টি এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৬৮টি গোল। একমাত্র ফুটবলার হিসেবে দুটি বিশ্বকাপে—২০১৪ ও ২০২২—গোল্ডেন বল জেতার কীর্তিও রয়েছে তার।

নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার ম্যাচটিই আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ ম্যাচ। সেই ম্যাচ শেষে অঝোরে কেঁদেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণাতেও যেন সেই আবেগেরই প্রতিফলন দেখা গেছে।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি জিতেছেন ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ। এর পাশাপাশি ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে জিতেছেন সোনার পদক। এসব অর্জনই মেসিকে শুধু আর্জেন্টিনার নয়, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বিপি>টিডি
 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি