মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় আট জরুরি সুপারিশ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: মেট্রোরেলের বিভিন্ন স্থানে দেখা দেওয়া ত্রুটি দ্রুত মেরামত করে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়াতে আট দফা জরুরি সুপারিশ করেছে হাই কোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি। সুপারিশে ক্ষতিগ্রস্ত বিয়ারিং প্যাড বদলে ফেলা, পিলার ও উড়ালপথের বিমে দেখা দেওয়া ফাটল মেরামত, স্টেশন ও নিয়ন্ত্রণকক্ষকে পানি থেকে সুরক্ষিত রাখা, রেললাইন পরীক্ষার আধুনিক যন্ত্র সংগ্রহ, ত্রুটিপূর্ণ ট্রেন সাময়িকভাবে চলাচল থেকে সরিয়ে রাখা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটি দ্রুত ঠিক করার কথা বলা হয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে।
গত সপ্তাহে এ প্রতিবেদনটি হাই কোর্টে দাখিল করা হয়েছে। পরে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ প্রতিবেদন অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে সুপারিশ বাস্তবায়ন করে অগ্রগতি জানানোর আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে গত বছর ২৯ অক্টোবর মেট্রোরেলের সব লাইন ও পিলারের নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাই কোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ পৃথক তিনটি রিটের শুনানি শেষে রুলসহ এ আদেশ দেন।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী তানভীর আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘হাই কোর্টের নির্দেশে গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাই কোর্টে দাখিল করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনে তিন ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে। একটি শর্টটার্ম, যা ৩০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি করণীয় এবং পদ্ধতিগত করণীয় বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব পিলারে ত্রুটি ধরা পড়েছে সেখানে নিয়মিত ফাটল ও দেবে যাওয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে সব ক্ষতিগ্রস্ত বিয়ারিং প্যাড দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে। এ ছাড়া পিলার ও উড়ালপথের বিমে যেসব ফাটল রয়েছে, সেগুলোর কারণ খুঁজে বের করে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে দ্রুত মেরামত করতে হবে। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমের আগে সব স্টেশন ও বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণকক্ষে যাতে পানি ঢুকতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বন্ধ হয়ে থাকা পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করতে হবে এবং রেললাইন নিয়মিত পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে হবে। যেসব ট্রেনের চাকায় ফাটল বা গুরুতর ত্রুটি পাওয়া যাবে, সেগুলো মেরামত না হওয়া পর্যন্ত চলাচল বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে যেখানে সমস্যা দেখা দিচ্ছে তা দ্রুত শনাক্ত করে সমাধান করতে হবে। ঠিকাদারের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু রাখতে হবে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়। গত বছর ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালামের মৃত্যু হয়। এর এক বছর আগেও একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ওই দুই ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় হাই কোর্টে পৃথক রিট আবেদন করা হয়।
বিপি/টিআই
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সব সেবা এক কার্ডে, আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
সঙ্গীত একাডেমি