১৬ জুলাই ২০২৬

সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নিয়ে বৈঠক আজ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ পিএম
সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নিয়ে বৈঠক আজ

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সুদমুক্ত ঋণে সরকারি প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য কেনা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমিয়ে ৯ জুলাই জারি করা অর্থ বিভাগের পত্রে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাড়িসংক্রান্ত যে কোনো চিঠি, আদেশ-নির্দেশ জারি হওয়ার কথা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু চিঠি জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চিঠির একাধিক স্থানে প্রধানমন্ত্রীর পদবি ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় ৫০ হাজার থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ নিয়ে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সব গ্রেডের কর্মকর্তারা অখুশি। তাদের দাবি, ১০ বছর তারা একই বেতনে চাকরি করছেন। তাছাড়া সরকারি অর্থ বা সুবিধা বৃদ্ধি করে তা কমানোর নজিরও অতীতে নেই বললেই চলে। এসব বিষয় নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, গাড়ি সেবাসংক্রান্ত যাবতীয় আদেশ-নির্দেশ সংবলিত যে কোনো চিঠিপত্র ইস্যু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্তু অর্থ বিভাগ থেকে মতামত দিয়ে একটি পত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের চিঠি জারির এখতিয়ার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। অর্থ বিভাগের নয়। তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে গাড়ি সেবা নিয়ে অর্থ বিভাগের মতামতসহ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সিনিয়র সচিবকে অবহিত করে অর্থ বিভাগকে জানাব। সে কারণে এই মিটিং আহ্বান করা হয়েছে।

এক প্রশ্নে অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, বাংলাদেশ সচিবালয় নির্দেশমালার ১৫০(১) অনুচ্ছদে বলা হয়েছে, সরকারের কোনো আদেশ জ্ঞাপন করা হচ্ছে এমন ধরনের পত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন-এ রূপ কোনো বিষয় উল্লেখ থাকবে না। সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এরূপ উল্লেখ করতে হবে। অথচ ৯ জুলাই অর্থ বিভাগের জারি করা পত্রের প্রথম প্যারার শেষ লাইনে এবং দ্বিতীয় প্যারার শুরুতে সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাসকরণে প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাড়ি কেনা ও ব্যবহার সুবিধা শুরু : ২০১১ সাল থেকে যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সচিব ও সিনিয়র সচিবদের সুদমুক্ত ঋণে ১৬ লাখ টাকা দেওয়া শুরু হয় গাড়ি কেনার জন্য। তখন গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ দেওয়া হতো ২৫ হাজার টাকা। এরপর রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন অর্থবছরে বাড়িয়ে যথাক্রমে ৩০, ৩৫, ৪৫ এবং সর্বশেষ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২০১৭ সালের জুন থেকে উপসচিবদের প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে ঘোষণা করে সরকার এবং তাদেরও গাড়ি কেনা বাবদ নগদ ৩০ লাখ এবং রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এই গাড়ি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের জন্য কেনায় এ ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মাসিক ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয় গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন-ভাতা বাবদ।

অভিযোগ রয়েছে, সুদমুক্ত ঋণে গাড়ি ও রক্ষণাবেক্ষণে নগদ ৫০ হাজার টাকা করে পেয়ে উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তা এই সুবিধার অপব্যবহার শুরু করেন। তারা এই গাড়ি পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য দিয়ে অধিদপ্তর অথবা প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহার করছেন। সুদমুক্ত ঋণে গাড়ি কেনার পর ওই গাড়ির পরিবর্তে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের গাড়ি ব্যবহার করলে রক্ষণাবেক্ষণ খরচের অর্ধেক সরকারি ফান্ডে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু একজন কর্মকর্তাও পাওয়া যায়নি যিনি সরকারি ফান্ডে কোনো টাকা ফেরত দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক কর্মকর্তা সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ি উবার চালকদের ভাড়া দিয়ে বাড়তি আয় করছেন। এতে ব্যক্তিগতভাবে তিনি লাভবান হলেও দেশ ও জনগণের কোনো লাভ হচ্ছে না।

বর্তমান সময়ে এসি ল্যান্ড, ইউএনও, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি), জেলা প্রশাসক (ডিসি), বিভাগীয় কমিশনার, সরকারের অতিরিক্ত সচিব, সচিব এবং সিনিয়র সচিবরা গাড়ি পান।

গাড়ি সুবিধা শুধু প্রশাসন ক্যাডারের : সুদমুক্ত ঋণে গাড়ি সুবিধা শুধু বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা ভোগ করেন। অন্য ২৫টি ক্যাডার এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে অন্য ২৫টি ক্যাডারের (আদার্স ক্যাডার) কর্মকর্তাদের বিরোধ রয়েছে। এছাড়া সুদমুক্ত ঋণে গাড়ি কেনার সুবিধা পাচ্ছেন লেজিসলেটিভ বিভাগের যুগ্ম সচিবরা। তারাও প্রশাসন ক্যাডারের মতো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে গাড়ি কেনার জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা এবং রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন।


বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি