নেতানিয়াহুকে ‘বিবি’ নামে ডাকা হয় কেন?
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: আত্মবিশ্বাস আর রাজনৈতিক কৌশলে বর্তমান রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়ে উঠেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে শৈশব থেকে উঠে আসা ‘বিবি’ নামেও বেশ পরিচিত ইসরায়েলের এই প্রধানমন্ত্রী।
গত বছর তাকে এই নামে সম্বোধন করেছিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তৎকালীন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির একটি মামলার প্রসঙ্গে প্রিয় বন্ধুকে ‘বিবি’ নামে সম্বোধন করে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমেরিকাই ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছিল, আর এখন আমেরিকাই বিবি নেতানিয়াহুকে বাঁচাবে।’ মূলত ‘বিবি’ নামটি নেতানিয়াহুর শৈশবের ডাকনাম। এক চাচাতো ভাইয়ের নাম অনুসারে শৈশবেই এই নাম পান তিনি।
পরবর্তীতে ইসরায়েলের রাজনীতিতে তার উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ‘বিবি’ নামটিও বেশ পরিচিতি পায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
নেতানিয়াহুর আত্মজীবনী ‘বিবি : মাই স্টোরি’ এবং তার জীবনীভিত্তিক বিভিন্ন সূত্রে এ নামের উৎপত্তির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। সেই অনুযায়ী, তার চাচাতো ভাই বিনিয়ামিন রনের ডাকনাম ছিল ‘বিবি’। ছোটবেলায় ওই ভাইকে ‘বি, বি’ বলে ডাকতেন তার বোন দাফনা।
সেখান থেকেই নামটি চালু হয়। পরে একই নাম নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে থাকে। যা এক সময় তার পরিবারের মধ্যে স্থায়ী হয়ে যায়।
১৯৪৯ সালের ২১ অক্টোবর তেল আবিবে জন্ম নেওয়া নেতানিয়াহুর বাবা বেনজিয়ন নেতানিয়াহু ছিলেন একজন ইতিহাসবিদ এবং ডানপন্থী জায়নবাদী চিন্তাধারার অনুসারী। বাবার রাজনৈতিক আদর্শ নেতানিয়াহুর ওপর প্রভাব ফেলেছিল।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় চলে যান তিনি।পরে ইসরায়েলে ফিরে দেশটির অভিজাত বিশেষ বাহিনী সায়েরেত মাতকালে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। সায়েরেত মাতকাল হলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একটি অত্যন্ত গোপনীয় এবং শীর্ষ স্তরের এলিট স্পেশাল ফোর্সেস বা কমান্ডো ইউনিট।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ও ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন নেতানিয়াহু। পরবর্তীতে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসে দায়িত্ব পালন করেন এবং জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত হিসেবেও কাজ করেন। সাবলীল মার্কিন ইংরেজি ও টেলিভিশনে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তোলে।
১৯৯০-এর দশকে লিকুদ পার্টির নেতৃত্বে উঠে আসেন নেতানিয়াহু। আত্মবিশ্বাস, রাজনৈতিক কৌশল ও গণমাধ্যম ব্যবহারের দক্ষতা তার উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ‘বিবি’ নামটি আন্তর্জাতিকভাবে আরো পরিচিতি পায়।
ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও তিনি ইসরায়েলের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ফলে শৈশবের ‘বিবি’ ডাকনামটি কেবল ব্যক্তিগত পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি তার রাজনৈতিক পরিচয়েরও অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে নামটি কোনো আনুষ্ঠানিক উপাধি নয়; এটি শৈশব থেকে চলে আসা একটি ব্যক্তিগত ডাকনাম।
বিপি > এসপি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি