২২ মে ২০২৬

নির্বাচনের আমেজে ঈদ আনন্দ, গ্রামমুখী মানুষের ঢল

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
নির্বাচনের আমেজে ঈদ আনন্দ, গ্রামমুখী মানুষের ঢল

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে মানুষের মাঝে ঈদ আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য ঢাকা ছাড়ছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার ভোটাররা। ফলে গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনজুড়ে তৈরি হয়েছে উপচে পড়া ভিড়। নির্বাচন ঘিরে এই যাত্রা অনেকের কাছেই যেন ঈদের বাড়ি ফেরার মতো আনন্দের।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে বাড়তে থাকে যাত্রীদের চাপ। সূর্য ওঠার আগেই প্ল্যাটফর্মে জড়ো হন শত শত মানুষ। কারও হাতে বড় ট্রলি ব্যাগ, কারও কাঁধে ব্যাকপ্যাক, কেউ আবার শিশুদের হাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ট্রেনের ঘোষণা ভেসে আসার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। কেউ সিট খুঁজছেন, কেউ স্বজনদের ডাকছেন, কেউ শেষ মুহূর্তে ফোনে বাড়ির খবর নিচ্ছেন। মুহূর্তেই স্টেশন এলাকা হয়ে ওঠে সরব ও প্রাণচঞ্চল।
স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, দল বেঁধে যাচ্ছেন অনেকেই। বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছেন কেউ কেউ। আবার কেউ চুপচাপ অপেক্ষা করছেন ট্রেনের। কিন্তু সবার চোখেমুখেই একই রকম উচ্ছ্বাস। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের উৎসবের আবহ। তবে, বাস না পেয়ে অনেক যাত্রীকে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।
রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাকিব হাসান বলেন, ‘বছরে এক-দুবারের বেশি বাড়ি যাওয়া হয় না। ভোটটা নিজের এলাকায় গিয়ে দিতে চাই। মনে হচ্ছে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছি।’
শুধু রেলস্টেশন নয়, বাস টার্মিনালগুলোতেও একই চিত্র। গাবতলী ও মহাখালীতে সকাল থেকেই বাড়তি যাত্রীচাপ লক্ষ্য করা গেছে। দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারে টিকিট সংগ্রহে লম্বা লাইন দেখা যায়। অনেকে আগেভাগে টিকিট কেটে রাখলেও শেষ মুহূর্তে টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন কেউ কেউ।
রেলওয়ে ও বাস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যাত্রীচাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ট্রেন ও বাস চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি রুটে বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়েছে। তবু নির্বাচন ঘিরে বাড়ি ফেরার আগ্রহ এত বেশি যে চাপ পুরোপুরি কমানো যাচ্ছে না।
এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ছুটি কার্যকর থাকবে।
সব মিলিয়ে রাজধানীর টার্মিনালগুলো এখন শুধু যাত্রাপথ নয়, যেন এক মিলনমেলা। ভোটের টানে শেকড়ে ফেরার এই স্রোত জানান দিচ্ছে, নির্বাচন ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ কতটা প্রাণবন্ত।
বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

FIRDAUS FASHIONS


FIRDAUS FASHIONS

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি