৪ জুলাই ২০২৬

পুনর্বিচারে দোষী সাব্যস্ত

নিউ ইয়র্কে গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
নিউ ইয়র্কে গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মাইকেল রবিনসনকে পুনর্বিচারের পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আবু সাবেত: ১৯৯৩ সালে পৃথক থাকা গর্ভবতী স্ত্রী গুয়েনডোলিন স্যামুয়েলসকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে মাইকেল রবিনসনকে পুনর্বিচারের পর ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানা গেছে।
রবিনসন স্যামুয়েলস যেখানে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন, সেই বেইসাইডের একটি বাড়িতে গিয়ে তার ওপর হামলা চালায় এবং একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। ২০২৩ সালে নতুন ডিএনএ প্রমাণের ভিত্তিতে তার ১৯৯৩ সালের দণ্ড বাতিল করা হয় এবং নতুন বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। পুনর্বিচারে ওই ডিএনএ প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হলেও জুরি এক দিনেরও কম সময়ে আলোচনার পর আবারও তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ বলেন, “৩০ বছরেরও বেশি আগে একটি জুরি মাইকেল রবিনসনকে তার পৃথক থাকা গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। সেই ঘটনার সত্য পরিবর্তিত হয়নি। আমাদের কার্যালয় নিহতের পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে গেছে।”
৫৯ বছর বয়সী রবিনসন, জ্যামাইকা, কুইন্সের বাসিন্দা। গত জুনে জুরি তাকে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের বিচারক মিশেল জনসন তাকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালের ১১ জানুয়ারি স্যামুয়েলস বেইসাইডে ৮৮ বছর বয়সী অ্যালভিয়েনা মার্চন-এর বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করছিলেন। রবিনসন সেখানে এসে স্যামুয়েলসকে নিয়ে বাজার করেন। বাড়িতে ফেরার পর স্যামুয়েলস উপরে গেলে রবিনসন তার পিছু নেন।
মার্চন প্রথম বিচারে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, তিনি স্যামুয়েলসের চিৎকার শুনে উপরে গিয়ে দেখেন রবিনসন ছুরি হাতে তার ওপর হামলা চালাচ্ছেন। হামলা ঠেকাতে গেলে মার্চনকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, রবিনসনের বিরুদ্ধে স্যামুয়েলসের ওপর পূর্বেও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। হামলার সময় তারা আলাদা থাকতেন এবং প্রায় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্যামুয়েলস তার নতুন প্রেমিকের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।
মামলার পুনর্বিচারের সময় মূল সাক্ষী মার্চন এবং প্রথম বিচারে সাক্ষ্য দেওয়া দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা মারা যাওয়ায়, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তাদের আগের সাক্ষ্য আদালতে পড়ে শোনানো হয়।
২০২৩ সালে নিহতের একটি নখে পাওয়া নতুন ডিএনএ নমুনা রবিনসনের সঙ্গে না মেলায় তার আগের দণ্ড বাতিল করা হয়েছিল। তবে ওই ডিএনএ কার ছিল, তা কখনো শনাক্ত করা যায়নি। পুনর্বিচারে সব প্রমাণ পর্যালোচনা করে জুরি আবারও রবিনসনকে দোষী সাব্যস্ত করে।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি