নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের এক ব্যক্তিকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড
তিন তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণ
বাসিন্দা আন্দ্রেস পোর্তিলা-কে ৪০ বছরের কারাদণ্ড
নোমান সাবিত: নিউ ইয়র্কে তিন তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে জ্যাকসন হাইটসের বাসিন্দা আন্দ্রেস পোর্তিলা (৩১)-কে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা কাটজ ঘোষণা করেন ভুক্তভোগীদের মধ্যে দুজন ছিলেন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
ডিএ ক্যাটজ বলেন, আসামি একাধিক ভুক্তভোগীর ওপর ভয়াবহ শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। বিশেষ করে এক কিশোরীর ওপর নির্যাতন এতটাই গুরুতর ছিল যে তার স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, পোর্তিলা গত ২৩ মার্চ কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে বিচারক উশির পণ্ডিত-ডুরান্ট -এর সামনে দোষ স্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির অপহরণ, প্রথম ডিগ্রির হামলা, একাধিক ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। আদালত তাকে ৪০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি মুক্তির পর আরও ২০ বছর তত্ত্বাবধানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পোর্তিলা এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে কুইন্সের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ডেকে নিয়ে গিয়ে আটক করে রাখেন এবং তার ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালান।
নভেম্বর মাসে তিনি ওই কিশোরীর মাথায় রেঞ্চ দিয়ে আঘাত করেন, ফলে তার চোখের হাড় ভেঙে যায়। এরপর তাকে একটি ব্যাগে ভরে নিজের গাড়িতে নিয়ে যান এবং নির্জন স্থানে গাড়ি পার্ক করে সেখানে আটকে রাখেন। মেয়েটিকে প্রায় দুই মাস ধরে গাড়ির ভেতরে বন্দি রাখা হয়, খাবার খুব কম দেওয়া হতো এবং তাকে পানির জগ ব্যবহার করে টয়লেট করতে বাধ্য করা হয়।
এই সময়ের মধ্যে পোর্তিলা আরও এক কিশোরীকে গাড়িতে ডেকে এনে ধর্ষণ করেন। পরে পরিবারের ফোনকল আসায় তাকে সেদিনই ছেড়ে দেন।
২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি, তিনি আরেকজন ২১ বছর বয়সী তরুণীকে ফোন চার্জ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গাড়িতে তোলেন। তাকে চার দিন ধরে আটকে রেখে বারবার শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালান। পরে ওই তরুণীর নিখোঁজ হওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তাকে ছেড়ে দেন।
ভুক্তভোগী পুলিশে অভিযোগ করলে তদন্ত শুরু হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর পুলিশ পোর্তিলা ও তার ব্যবহৃত গাড়ি শনাক্ত করে। এক পর্যায়ে ধাওয়া শেষে ৬ জানুয়ারি ২০২৩ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন প্রথম ভুক্তভোগীও গাড়ির ভেতরে ছিলেন এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে দীর্ঘ চিকিৎসা দিতে হয়।
এই মামলাটি কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির বিশেষ ভিকটিমস ব্যুরোর সহকারী অ্যাটর্নিরা পরিচালনা করেন। আদালতের এই রায়কে ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
অবৈধ ট্রাক চালকদের লাইসেন্স বাতিল না করায় ৭৪ মিলিয়ন ডলার হারাচ্ছে নিউ ইয়র্ক
ইরান চুক্তি না মানলে যুদ্ধের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি