অবৈধ ট্রাক চালকদের লাইসেন্স বাতিল না করায় ৭৪ মিলিয়ন ডলার হারাচ্ছে নিউ ইয়র্ক
নিউ ইয়র্ক সিটির কর্মকরর্তাবৃন্দ
আবু সাবেত: অভিবাসী ট্রাকচালকদের জন্য ইস্যু করা প্রায় ৩৩ হাজার সন্দেহজনক বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স (সিডিএল) বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানানোয় নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ৭৩.৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ফেডারেল তহবিল হারাতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
গত বছর এক অডিটে এসব লাইসেন্সে গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ার পরও সেগুলো বাতিল না করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অডিটে পর্যালোচিত ২০০টি লাইসেন্সের অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা পাওয়া যায় যেমন, কোনো অভিবাসীর দেশে থাকার বৈধ অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তার লাইসেন্স দীর্ঘদিন কার্যকর ছিল। এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সব লাইসেন্স পুনর্বিবেচনা করে অবৈধগুলো বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, ফ্লোরিডায় গত আগস্টে একটি দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আসে। এরপর থেকে দেশের সব অঙ্গরাজ্যে নন-ডোমিসাইলড সিডিএল লাইসেন্সের রেকর্ড পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা মেনে চলেছে বা ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া ইতোমধ্যে ২০০ মিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। পেনসিলভানিয়া, মিনেসোটা ও নর্থ ক্যারোলাইনাসহ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যও অর্থ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
ডাফি বলেন, আমি আমেরিকান জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, যাচাই-বাছাই ছাড়া অযোগ্য বিদেশি চালকদের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেললে সংশ্লিষ্ট রাজ্য নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আজ আমি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।
তিনি জানান, সারা দেশে মোট ট্রাকচালকদের প্রায় ২০ শতাংশই অভিবাসী। তবে নন-ডোমিসাইলড লাইসেন্সধারীরা মোট বাণিজ্যিক লাইসেন্সের মাত্র ৫ শতাংশ, যা প্রায় ২ লাখ চালকের সমান। নিউইয়র্কে এমন লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে ৩২,৬০৬টি।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই বিদেশি চালকদের ৯৭ শতাংশ ভবিষ্যতে আর বাণিজ্যিক লাইসেন্স পাবে না বলে জানিয়েছে পরিবহন বিভাগ।
নিউ ইয়র্কের কর্মকর্তারা তাদের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকে সঠিক বলে দাবি করেছেন। তারা বলেন, তারা ফেডারেল আইন মেনেই কাজ করছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে হওয়া অডিটেও এই প্রক্রিয়া সমর্থন পেয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এটি প্রথম নয় যে নিউ ইয়র্কের বিরুদ্ধে ফেডারেল তহবিল আটকে দেওয়া বা হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ডাফি ম্যানহাটনে সাবওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং হাডসন নদীর নিচে টানেল নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ১৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিলও স্থগিত করেছিলেন। পরে সাবওয়ে প্রকল্পের অর্থায়ন পুনরুদ্ধারে সম্মত হয় প্রশাসন, আর টানেল প্রকল্পে অর্থায়ন চালু রাখতে আদালত নির্দেশ দেয়।
এছাড়া, ম্যানহাটনে যানজট নিরসনে চালু করা কনজেশন প্রাইসিং বাতিল না করলে এবং সাবওয়ে ব্যবস্থায় অপরাধ কমানো না গেলে ফেডারেল তহবিল বন্ধের হুমকিও দেন ডাফি। এসব বিষয়েও নিউইয়র্ক আদালতে গিয়ে জয় পায়।
গভর্নর ক্যাথি হোকুল-এর মুখপাত্র শন বাটলার বলেন, এই পদক্ষেপটি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলোর বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক আক্রমণের অংশ বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সেক্রেটারি ডাফি এক বছর ধরে নিউ ইয়র্কের সড়ক, সাবওয়ে ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী তহবিল আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব এবং আগের মতোই জয়ী হব।
এদিকে, ট্রাকিং শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো অযোগ্য চালকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছে, অনেক সময় যেসব চালকের লাইসেন্স থাকা উচিত নয় বা যারা ইংরেজি বলতে পারেন না, তাদেরও ভারী ট্রাক চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ওনার-অপারেটর ইন্ডিপেনডেন্ট ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি টড স্পেন্সার বলেন, এই ধরনের প্রয়োগমূলক পদক্ষেপ সড়ক থেকে খারাপ উপাদান সরিয়ে দেবে এবং ব্যবস্থায় জবাবদিহি ফিরিয়ে আনবে। এটি নিরাপদ মহাসড়ক ও আরও পেশাদার ট্রাকিং খাত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তবে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, কিছু চালককে অন্যায়ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিখ ট্রাকচালকদের দিকে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে, কারণ ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ার সাম্প্রতিক দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার চালকই শিখ সম্প্রদায়ের ছিলেন।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
ইরান চুক্তি না মানলে যুদ্ধের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি