প্রতিদিন ওরস্যালাইন খাওয়া কি উচিত? যা বলছেন চিকিৎসকরা
স্থ ব্যক্তিদের প্রতিদিন ওরস্যালাইন পান করার অভ্যাস সবসময় উপকারী নাও হতে পারে।
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ডায়রিয়া, বমি, অসুস্থতা বা অতিরিক্ত গরমে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে ওআরএস (ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট) ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই গরম আবহাওয়া বা ব্যায়ামের পর নিয়মিত ওআরএস বা ওরস্যালাইন পান করছেন। প্রশ্ন হলো, সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ওরস্যালাইন পান করা কি সত্যিই প্রয়োজন বা নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, ওরস্যালাইন মূলত শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া পানি, লবণ ও খনিজ উপাদান দ্রুত পূরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি সাধারণ পানির বিকল্প নয়। তাই সুস্থ ব্যক্তিদের প্রতিদিন ওরস্যালাইন পান করার অভ্যাস সবসময় উপকারী নাও হতে পারে।
ওরস্যালাইন কী এবং কীভাবে কাজ করে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ফর্মুলা অনুযায়ী ওরস্যালাইনে পানি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড এবং গ্লুকোজ থাকে। এই উপাদানগুলো ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে হারিয়ে যাওয়া তরল ও ইলেকট্রোলাইট পূরণ করতে সাহায্য করে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, শুধু পানি পান করলে সব সময় শরীরের প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ হয় না। তবে ওআরএস এমন পরিস্থিতির জন্য তৈরি, যখন শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তরল ও খনিজের ঘাটতি দেখা দেয়।
প্রতিদিন ওরস্যালাইন পান করা কি নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ওরস্যালাইন পান করার প্রয়োজন নেই। কারণ দৈনন্দিন খাবার, ফলমূল এবং অন্যান্য পানীয় থেকেই শরীর প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট পেয়ে থাকে।
তবে কোনো বিশেষ শারীরিক সমস্যা বা চিকিৎসকের পরামর্শে যদি নিয়মিত ওরস্যালাইন গ্রহণের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে তা নিরাপদ হতে পারে।
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসক ডা. স্মৃতি ঝুনঝুনওয়ালার মতে, পানিশূন্যতা শুধু পানি হারানোর বিষয় নয়; এর সঙ্গে ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতিও জড়িত। তবে সে কারণে প্রতিদিন ওরস্যালাইন পান করাই একমাত্র সমাধান নয়।
কারা তুলনামূলক বেশি উপকৃত হতে পারেন?
ফর্টিস হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অতুল ইংগালের মতে, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ওআরএস বেশি উপকারী হতে পারে। যেমন—
- ডায়রিয়া বা বমিতে আক্রান্ত ব্যক্তি
- অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় অবস্থানকারী মানুষ
- অতিরিক্ত ঘাম ঝরানো ক্রীড়াবিদ বা শ্রমজীবী মানুষ
- পানিশূন্যতার ঝুঁকিতে থাকা বয়স্ক ব্যক্তি
- চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা কিছু বিশেষ রোগী
তবে এসব ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওআরএস গ্রহণ করা উচিত।
অতিরিক্ত ওরস্যালাইন কি ক্ষতিকর?
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওরস্যালাইন গ্রহণ করলে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। এছাড়া কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবারে অতিরিক্ত পরিমাণ ওরস্যালাইন পান করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির ঝুঁকিই বেশি।
যাদের প্রতিদিন ওরস্যালাইন এড়িয়ে চলা উচিত
- কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
- অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের রোগী
- কিছু ধরনের হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
- সোডিয়াম নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারী মানুষ
- যাদের অতিরিক্ত ইলেকট্রোলাইট গ্রহণে চিকিৎসকের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে
কখন শুধু পানি নয়, ওরস্যালাইন প্রয়োজন হতে পারে?
- দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া
- বারবার বমি
- অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
- মাথা ঘোরা
- মুখ শুকিয়ে যাওয়া
- প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
এসব লক্ষণ শরীরে পানি ও খনিজের ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে।
নিরাপদে ওরস্যালাইন ব্যবহারের পরামর্শ
- প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী ওআরএস তৈরি ও পান করতে হবে।
- নির্ধারিত মাত্রার বেশি গ্রহণ করা উচিত নয়।
- হঠাৎ করে দৈনন্দিন পানির পরিবর্তে ওরস্যালাইন পান শুরু করা ঠিক নয়।
- উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ওআরএস জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে সুস্থ মানুষের জন্য সাধারণ পানি, সুষম খাদ্য এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণই শরীরের স্বাভাবিক পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে যথেষ্ট। তাই চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া প্রতিদিন ওরস্যালাইন পান করার অভ্যাস গড়ে তোলার আগে সতর্ক থাকা উচিত। সূত্র: এনডিটিভি
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি, কানেকটিকাট
সঙ্গীত একাডেমি