১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শতবর্ষ পেরোলেও ছাউনি মেলেনি: রোদ-বৃষ্টির সাথে যুদ্ধ করে চলছে রুহিয়া স্টেশনের ২ শত যাত্রী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
শতবর্ষ পেরোলেও ছাউনি মেলেনি: রোদ-বৃষ্টির সাথে যুদ্ধ করে চলছে রুহিয়া স্টেশনের ২ শত যাত্রী

দুলাল হক, রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ  শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রুহিয়া রেলস্টেশন থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া, আটোয়ারী ও বালিয়াডাঙ্গী - এই ৩ উপজেলার হাজারো মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন। আন্তঃনগরসহ প্রতিদিন ৫টি ট্রেনে এখান থেকে প্রায় ২ শতাধিক যাত্রী ওঠানামা করলেও স্টেশনে যাত্রী ছাউনি না থাকায় তপ্ত রোদ ও বৃষ্টি-বাদলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম জোনের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রুহিয়া। ১৯২৮ সালে রুহিয়া পর্যন্ত রেললাইন ও স্টেশন স্থাপিত হয়। সে সময় রেলকর্মকর্তা ও স্টাফদের জন্য কোয়ার্টারও নির্মাণ করা হয়। পরে পঞ্চগড় পর্যন্ত লাইন সম্প্রসারিত হলে এবং ঠাকুরগাঁও জেলা ঘোষিত হলে অনেক কর্মকর্তাকে জেলা সদরে পদায়ন করা হয়।

বিগত সরকারের সময় দিনাজপুর থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত রেললাইনটি ডুয়েলগেজে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে পঞ্চগড় পর্যন্ত ৩টি আন্তঃনগর ও ২টি লোকাল ট্রেন চলাচল করে। একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ও রাজশাহীগামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস - এই ৫টি ট্রেন প্রতিদিন রুহিয়া স্টেশন অতিক্রম করে। পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ছাড়া বাকি ৪টি ট্রেনের স্টপেজ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ২ শতাধিক যাত্রী এখানে ওঠানামা করেন।

ছাউনি না থাকায় বৃষ্টিতে ভিজে কাপড়-চোপড় ও মূল্যবান কাগজপত্র নষ্ট হচ্ছে। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেসে মাত্র ২৫টি আসন বরাদ্দ। যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এসি সিটের বরাদ্দ নেই। স্থানীয়দের দাবি এসিসহ কমপক্ষে ২০০টি আসন বরাদ্দ করা হোক।

পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের স্টপেজ দ্রুতগামী এই ট্রেনটির স্টপেজ না থাকায় ঢাকাগামী যাত্রীরা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ক্রসিংয়ের জন্য বেশিরভাগ ট্রেন ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। কিন্তু সেখানে প্ল্যাটফর্ম না থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের উঠানামায় চরম ভোগান্তি হয়। তাই মূল প্ল্যাটফর্মের পাশে নতুন প্ল্যাটফর্ম ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি।

এছাড়া ১ম, ২য় ও ৩য় শ্রেণির যাত্রীদের জন্য পৃথক বিশ্রামাগার নেই। প্ল্যাটফর্মে থাকা বসার আসনগুলোও দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভেঙে পড়েছে।

খায়রুল বাশার, আবুল হোসেন ও শফিকুল ইসলামসহ একাধিক যাত্রী বলেন, _"শতাব্দী প্রাচীন এই স্টেশনে যাত্রী ছাউনি নেই। বৃষ্টির দিনে ভিজে একাকার হয়ে যাই। মূল্যবান কাগজপত্রও নষ্ট হয়। জরুরি ভিত্তিতে ছাউনি চাই। অনেকে টিকেট না পেয়ে ঢাকা যেতে পারছেন না। তাই আসন বাড়ানো, এসি সিট বরাদ্দ ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের স্টপেজ চাই।

এ বিষয়ে রুহিয়া রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. নাজমুল হোসেন, গ্রেড-৪ বলেন, যাত্রী সেবার মান বাড়াতে দ্রুত যাত্রী ছাউনি ও প্ল্যাটফর্ম এক্সটেনশন করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল, দিনাজপুর বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাকিব হাসান বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম এক্সটেনশন এবং যাত্রী ছাউনি নির্মাণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করি নির্মাণ কাজ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু হবে। এগুলো নির্মিত হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

যাত্রীদের দাবি, কর্তৃপক্ষের আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়ন হলে রুহিয়া স্টেশন হবে এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রকৃত ভরসাস্থল।
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি