১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রাম্পের ৫,০০০ ডলারের ‘ডিভিডেন্ড চেকের’ ওপর এখনই ভরসা করবেন না

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
ট্রাম্পের ৫,০০০ ডলারের ‘ডিভিডেন্ড চেকের’ ওপর এখনই ভরসা করবেন না

নতুন এই ৫,০০০ ডলার পাওয়া যাবে

কৌশলী ইমা: টেক্সাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনবিষয়ক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, নভেম্বরে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫,০০০ ডলারের একটি ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। হোয়াইট হাউসও ১০ সেপ্টেম্বর এই প্রস্তাবের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। তবে এই অর্থ দিতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

এই প্রতিশ্রুতিকে লেখক ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের অত্যন্ত সরাসরি একটি উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, সরকারি সুবিধা বা নগদ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন নয়; দুই দলের রাজনীতিকদের ক্ষেত্রেই অতীতে এর উদাহরণ দেখা গেছে। ট্রাম্পের আগের কয়েকটি নগদ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে লেখক বলেছেন, নতুন এই ৫,০০০ ডলার পাওয়া যাবে ধরে নিয়ে এখনই কারও ব্যয়ের পরিকল্পনা করা উচিত নয়।

অনেকেরই ২০২১ সালের জানুয়ারিতে জর্জিয়ার দুটি সিনেট রানঅফ নির্বাচনের কথা মনে আছে। তখন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আমেরিকানদের জন্য ফেডারেল ‘স্টিমুলাস চেক’ও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছিল। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত জো বাইডেন বলেছিলেন, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন অসফ ও রাফায়েল ওয়ার্নক নির্বাচিত হলে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটবে এবং আমেরিকানদের জন্য ২,০০০ ডলারের সহায়তার পথ তৈরি হবে। অসফ ও ওয়ার্নক জয়ী হওয়ার পর ২০২১ সালের মার্চে বাইডেনের American Rescue Plan পাসে তাঁদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্তমান মেয়াদে ট্রাম্প এর আগেও অনুরূপ নগদ অর্থ দেওয়ার ধারণার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি সম্ভাব্য ৫,০০০ ডলারের ‘ডোজ (DOGE) লভ্যাংশ’-এর কথা বলেছিলেন, যা সরকারি দক্ষতা বিভাগ-এর মাধ্যমে অর্জিত সাশ্রয়ের একটি অংশ জনগণকে ফেরত দেওয়ার ধারণার ওপর ভিত্তি করে প্রস্তাব করা হয়েছিল। তিনি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য ‘অন্তত’ ২,০০০ ডলারের ট্যারিফ-রিবেট চেক দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। বর্তমান ৫,০০০ ডলারের ডিভিডেন্ড পরিকল্পনার অর্থায়নের ক্ষেত্রেও ট্যারিফ রাজস্বের কথা বলা হয়েছে।

তবে সরকারি চেক দেওয়ার প্রস্তাবের ইতিহাস শুধু ট্রাম্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২০ সালে তৎকালীন সিনেটর কমলা হ্যারিস কোভিড-১৯ মহামারির সময় একটি ব্যাপক ‘ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম’ প্রস্তাব করেছিলেন। সেটি আইনে পরিণত হয়নি। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে অধিকাংশ আমেরিকান নির্দিষ্ট সময়ে মাসিক নগদ সহায়তা পেতেন এবং পরিবারভেদে সহায়তার পরিমাণ আরও বেশি হতে পারত। লেখক এই পরিকল্পনার সম্ভাব্য ব্যয় অত্যন্ত বড় হতো বলে উল্লেখ করেছেন।

বাইডেন প্রশাসনের ছাত্রঋণ মওকুফ পরিকল্পনা, ২০১০ সালের অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট- এর মাধ্যমে মেডিকেইড ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিমার সম্প্রসারণ এবং আগের রিপাবলিকান প্রশাসনের সময় খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির যোগ্যতা সম্প্রসারণকেও লেখক সরকারি সুবিধা সম্প্রসারণের রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

১৯৬০-এর দশক ও ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে কংগ্রেস একাধিকবার সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা বাড়িয়েছিল। ১৯৭২ সালে পাস হওয়া একটি আইনের মাধ্যমে সুবিধা ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়, যা সেই বছরের নির্বাচনের প্রায় দুই মাস আগে কার্যকর হয়েছিল। লেখক এসব উদাহরণকে নির্বাচনের আগে জনপ্রিয় সরকারি সুবিধা সম্প্রসারণের বৃহত্তর রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

নিবন্ধটির যুক্তি হলো, বিভিন্ন সময়ের বড় সরকারি সুবিধা সম্প্রসারণ, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্যাকেজ এবং অধিকার কর্মসূচিতে ক্রমবর্ধমান ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ঋণ ও বাজেট ঘাটতির ওপর চাপ তৈরি করেছে। এই আর্থিক পরিস্থিতিই ট্রাম্পের নতুন ৫,০০০ ডলারের প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে।

দায়িত্বশীল ফেডারেল বাজেট বিষয়ক কমিটি (সিআরএফবি)-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে এককালীন ৫,০০০ ডলার দিলে এক বছরেই প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। সংস্থাটি আরও বলেছে, বর্তমান ট্যারিফ রাজস্ব বছরে ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও কম এবং সেই রাজস্ব ইতিমধ্যেই সরকারি ঘাটতির পূর্বাভাসে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

CRFB-এর প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিয়াস প্রস্তাবটির আর্থিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে এই অর্থ দেওয়া হলে বাজেট ঘাটতি বাড়তে পারে এবং অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হলে মূল্যস্ফীতির ওপরও ঊর্ধ্বমুখী চাপ পড়তে পারে। এটি CRFB-এর বিশ্লেষণ; প্রশাসন অবশ্য প্রস্তাবটির অর্থনৈতিক ভিত্তি সম্পর্কে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রাম্পের ঘোষণাটি এখন পর্যন্ত একটি প্রস্তাব—অনুমোদিত ৫,০০০ ডলারের ফেডারেল পেমেন্ট নয়। এটি বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের পদক্ষেপ ও অর্থায়নের ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে। তাই বর্তমানে আমেরিকানদের জন্য ৫,০০০ ডলারের চেক পাঠানোর কোনো অনুমোদিত কর্মসূচি রয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি